
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা ও পৌর এলাকার সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের নামাজ শেষে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা এবং গ্রামীণ জনপদে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদের জামাত শেষে চান্দিনা পৌরসভা, বরকইট ইউনিয়ন, মহিচাইল ইউনিয়ন, গল্লাই ইউনিয়ন, বাতাঘাসী ইউনিয়ন, কেরনখাল ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে শুরু হয় কোরবানির কার্যক্রম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ কোরবানি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় গরু ও ছাগল জবাই, মাংস কাটা এবং বণ্টনের দৃশ্য চোখে পড়ে। অনেক পরিবার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে যৌথভাবে কোরবানি দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, যৌথ কোরবানির মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যয় কমে, অন্যদিকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
উপজেলার বিভিন্ন মহল্লা ও গ্রামে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নতুন পোশাক পরে তারা কোরবানির পশুর পাশে ঘুরে বেড়ায়, বড়দের কাজে সহযোগিতা করে এবং মাংস কাটার দৃশ্য উপভোগ করে। অনেক এলাকায় শিশুদের আনন্দঘন উপস্থিতি ঈদের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
এদিকে সকাল থেকে ব্যস্ত সময় পার করছেন কসাই ও মাংস কাটার শ্রমিকরা। একের পর এক বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে তারা পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকলেও ঈদকে ঘিরে তাদের মধ্যেও ছিল উৎসবের আনন্দ।
চান্দিনার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির মাংস দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করতেও দেখা গেছে অনেক পরিবারকে। স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোও নিজ উদ্যোগে অসচ্ছল মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
সবমিলিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহায় ধর্মীয় অনুশাসন, ত্যাগের শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠেছে পুরো চান্দিনা উপজেলাজুড়ে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 











