
সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও ভোগান্তির মুখে পড়ছেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কৃষকরা। ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে বস্তা সংকট, শ্রমিক স্বল্পতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে উপজেলা খাদ্য গুদাম এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, গুদামের ভেতর ও বাইরে ধানবোঝাই ট্রাক, ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ধান নিয়ে আসা কৃষকদের অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন ধান আনলোডের জন্য।
একাধিক কৃষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে প্লাস্টিকের বস্তায় ধান নিয়ে এলে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। গুদামে পর্যাপ্ত সরকারি চটের বস্তা না থাকায় তাদের নিজ খরচে বাজার থেকে পুরোনো চটের বস্তা কিনতে হচ্ছে। প্রতি বস্তা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দামে কিনতে হওয়ায় ধান বিক্রির আগেই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা বহন করতে হচ্ছে কৃষকদের।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি করতে এসে পরিবহন খরচের পাশাপাশি বস্তা ক্রয় ও দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকার কারণে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। এতে ধান বিক্রি করে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে খাদ্য গুদামে একসঙ্গে ধান গ্রহণ ও আনলোড কার্যক্রম চলায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক না থাকায় ধান খালাসের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই গুদাম এলাকায় যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাইমুল করিম টিটুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শংকর চন্দ্র অধিকারী জানান, সরকারি চটের বস্তার কিছুটা সংকট রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একসঙ্গে ধান লোড ও আনলোড কার্যক্রম পরিচালনার কারণে সাময়িকভাবে শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে কৃষকদের দাবি, দ্রুত চটের বস্তা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে ধান গ্রহণ কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক। অন্যথায় সরকারি ধান সংগ্রহ কর্মসূচির সুফল থেকে অনেক কৃষক বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষকের স্বার্থ রক্ষা ও সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমকে কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ের এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি। এতে একদিকে যেমন কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন, অন্যদিকে সরকারের ধান সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রাও সহজে অর্জিত হবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি 










