
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার দুলালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে স্কুল বন্ধ থাকার সময়ে জুয়ার আসর বসানো হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে।
ভাইরাল ভিডিওতে দুলালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাসুদ আলমকে জুয়ার আসরে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বিএনপি নেতা এরশাদ জামান, রুবেল মিয়া এবং যুবদল নেতা মাহবুব মেম্বারসহ আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যক্তি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে জুয়া খেলা ও মাদকসেবনের আড্ডা পরিচালনা করে আসছে। এ বিষয়ে অনেকেই অবগত থাকলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন বলেন, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। বিএনপি একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল। কোনো নেতাকর্মী যদি এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তা দলের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “ভিডিওটি দেখার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষকে জুয়ার আসরের জন্য ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিনিধি 










