
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার নেপথ্যের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সংগঠনটি আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও সমন্বিত কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।
তিনি বলেন, “তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আর কোনো ধরনের কালক্ষেপণ মেনে নিতে প্রস্তুত নই। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের মুখোমুখি করতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে আরও বিস্তৃত কোনো পরিকল্পনা বা দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে আসা বক্তব্য ও তথ্যের কারণে এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলে অভিযুক্তদের দেশত্যাগ রোধ করা সম্ভব হতে পারত। বিশেষ করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত ব্যবহার করে সন্দেহভাজনরা দেশত্যাগ করেছে বলে যে তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা বলেন, একটি বেসরকারি অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান স্বল্প সময়ে সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করতে সক্ষম হলেও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এখনো সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হলেও অভিযুক্তরা অল্প সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করেছে। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর, সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনলাইন ডেস্ক 










