বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
চাঁদা দাবির জেরে প্রাণহানি, নাকি আড়ালে অন্য রহস্য?

চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে প্রতিবন্ধী তরুণী মরিয়ম আক্তার (২১)-এর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ, পূর্বের একটি হত্যা মামলা এবং পারিবারিক বিরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, মরিয়ম আক্তারের বাড়ি একই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামে হলেও বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি হোসেনপুর গ্রামে বসবাস করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত তিন বছর ধরে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হতো বলে পরিবারের দাবি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন (২১ মার্চ) একদল ব্যক্তি মরিয়মের মামা আবুল হাসানের কাছে চাঁদা দাবি করতে গেলে বাড়িতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় মরিয়ম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে নানী কারিমা খাতুনের কোলে অচেতন হয়ে ঢলে পড়ে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

মরিয়মের নানী কারিমা খাতুন জানান, মৃত্যুর সময় মরিয়মের পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। তার অভিযোগ, চাঁদা আদায়ের সময় মনির হোসেন ও মাকসুদার ধাক্কায় মরিয়ম মাটিতে পড়ে যায় এবং সেখান থেকেই তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, সময় কিংবা দৃশ্যমান কোনো আঘাতের বিষয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

মরিয়মের মামা আবুল হাসান জানান, ময়নাল হোসেন তার কোনো ক্ষতি করেননি। তবে মনির, রিপনসহ কয়েকজন তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি গরিব হওয়ায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভয়-ভীতি দেখায়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

ঘটনার সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগের একটি হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। গত ৭ ডিসেম্বর মরিয়মের মামী সাবিনা হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় সাবিনার পিতা পাশের গ্রাম হারালদারের ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে সাবিনার স্বামী আবুল খায়ের ও মরিয়মের মা শিউলি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, সাবিনা হত্যার পর ময়নাল হোসেন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে তার সাঙ্গোপাঙ্গদের মাধ্যমে তাদের পরিবারসহ গ্রামের অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল।

See also  চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় নানী কারিমা খাতুনের দায়ের করা হত্যা মামলায় পুলিশ ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মরিয়মের মৃত্যুর সময় ময়নাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বলে জানা গেছে। চাঁদা আদায় করতে আসা মনির, রিপন, মাহবুব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানান কারিমা খাতুন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়টি ময়নাল পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এলাকায় জানাজানি হয়। মৃত্যুর দিন ময়নাল আসেনি, তবে মনিরসহ আরও কয়েকজন এসেছিল। তারা মামলার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ময়নালের নির্দেশে অপর আসামিদের মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটেছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাদিনী ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল মামলা এবং সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

জনপ্রিয়

চাঁদা দাবির জেরে প্রাণহানি, নাকি আড়ালে অন্য রহস্য?

চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু

২৫ মার্চ ২০২৬, ৩:৩৯

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার গল্লাই ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে প্রতিবন্ধী তরুণী মরিয়ম আক্তার (২১)-এর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগ, পূর্বের একটি হত্যা মামলা এবং পারিবারিক বিরোধ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি জটিল আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, মরিয়ম আক্তারের বাড়ি একই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামে হলেও বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি হোসেনপুর গ্রামে বসবাস করতেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় গত তিন বছর ধরে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হতো বলে পরিবারের দাবি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন (২১ মার্চ) একদল ব্যক্তি মরিয়মের মামা আবুল হাসানের কাছে চাঁদা দাবি করতে গেলে বাড়িতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় মরিয়ম উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে নানী কারিমা খাতুনের কোলে অচেতন হয়ে ঢলে পড়ে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

মরিয়মের নানী কারিমা খাতুন জানান, মৃত্যুর সময় মরিয়মের পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। তার অভিযোগ, চাঁদা আদায়ের সময় মনির হোসেন ও মাকসুদার ধাক্কায় মরিয়ম মাটিতে পড়ে যায় এবং সেখান থেকেই তার মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, সময় কিংবা দৃশ্যমান কোনো আঘাতের বিষয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

মরিয়মের মামা আবুল হাসান জানান, ময়নাল হোসেন তার কোনো ক্ষতি করেননি। তবে মনির, রিপনসহ কয়েকজন তার কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি গরিব হওয়ায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভয়-ভীতি দেখায়। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

ঘটনার সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগের একটি হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। গত ৭ ডিসেম্বর মরিয়মের মামী সাবিনা হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় সাবিনার পিতা পাশের গ্রাম হারালদারের ময়নাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে সাবিনার স্বামী আবুল খায়ের ও মরিয়মের মা শিউলি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, সাবিনা হত্যার পর ময়নাল হোসেন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে তার সাঙ্গোপাঙ্গদের মাধ্যমে তাদের পরিবারসহ গ্রামের অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল।

See also  চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই মোটরসাইকেল আরোহীর

এদিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় নানী কারিমা খাতুনের দায়ের করা হত্যা মামলায় পুলিশ ময়নাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে। তবে মরিয়মের মৃত্যুর সময় ময়নাল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না বলে জানা গেছে। চাঁদা আদায় করতে আসা মনির, রিপন, মাহবুব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানান কারিমা খাতুন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়টি ময়নাল পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এলাকায় জানাজানি হয়। মৃত্যুর দিন ময়নাল আসেনি, তবে মনিরসহ আরও কয়েকজন এসেছিল। তারা মামলার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ময়নালের নির্দেশে অপর আসামিদের মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটেছে বলে সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাদিনী ৬৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা হওয়ায় এটি একটি সংবেদনশীল মামলা এবং সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।