বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তেল মজুত ঠেকাতে কড়াকড়ি, রসিদ ছাড়া জ্বালানি বিক্রি নয়

মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বিপিসি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমা কার্যকর থাকবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার জ্বালানি দেওয়া হবে। এছাড়া এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে সীমা তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। পিকআপ ও স্থানীয় বাসগুলো দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি নেওয়ার সময় গ্রাহকদের আগের কেনা তেলের রসিদ দেখাতে হবে। রসিদ ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন তেল বিক্রি করতে পারবে না। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে মজুত করার প্রবণতা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামে পড়ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ডিলার ও ভোক্তার বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুত করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তেলের চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে এবং শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে তেল সরবরাহ সীমিত করার ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা–সহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, জ্বালানি বিক্রিতে এই সীমা নির্ধারণের ফলে অপচয় ও অবৈধ মজুত কমবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয়

তেল মজুত ঠেকাতে কড়াকড়ি, রসিদ ছাড়া জ্বালানি বিক্রি নয়

মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

৬ মার্চ ২০২৬, ৬:২০

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়তে থাকায় দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড় দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি তেল সরবরাহে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বিপিসি জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমা কার্যকর থাকবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার জ্বালানি দেওয়া হবে। এছাড়া এসইউভি বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে সীমা তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। পিকআপ ও স্থানীয় বাসগুলো দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি জানিয়েছে, জ্বালানি নেওয়ার সময় গ্রাহকদের আগের কেনা তেলের রসিদ দেখাতে হবে। রসিদ ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন তেল বিক্রি করতে পারবে না। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে মজুত করার প্রবণতা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও দামে পড়ছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ডিলার ও ভোক্তার বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুত করার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এখনো শেষ হয়ে যায়নি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তেলের চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে এবং শিগগিরই পর্যাপ্ত ‘বাফার স্টক’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে তেল সরবরাহ সীমিত করার ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা–সহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, জ্বালানি বিক্রিতে এই সীমা নির্ধারণের ফলে অপচয় ও অবৈধ মজুত কমবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।