বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ মে ‘গণহত্যা’র বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের প্রতি হেফাজতে ইসলামের জোর দাবি

ছবি: সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘গণহত্যা’র বিচার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ দাবি জানান।

একইসঙ্গে শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী দোয়া ও আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে এতে দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা জানান, ৫ মে’র ওই নৃশংস ঘটনার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শাপলা চত্বরের ওই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শক্ত আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পরিকল্পিত ওই গণহত্যায় অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার আলেম, হাফেজ ও নবীপ্রেমিক জনতা আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন।”

হেফাজতের শীর্ষ এই দুই নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যার পর যদি দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো জোরালোভাবে মাঠে নামত, তবে পরবর্তীতে ‘চব্বিশের জুলাই ম্যাসাকার’ বা ছাত্র-জনতার ওপর ভয়াবহ গণহত্যার মতো ঘটনা জাতিকে দেখতে হতো না। তাদের মতে, তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর চরম ব্যর্থতা, ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলারদের উসকানি এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশের নীরবতার সুযোগ নিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর উত্থান ঘটেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে ইসলামবিদ্বেষী ও আধিপত্যবাদীদের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ প্রজেক্টের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের চেতনা যদি সেদিন রুখে না দাঁড়াত, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আগেই হুমকির মুখে পড়ত। ইসলামপন্থি ও প্রতিবাদী আলেম-ওলামাদের যারা ‘অমানুষ’ হিসেবে চিত্রিত করতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাপলার এই রক্তাক্ত চেতনা সর্বদা জাগ্রত রাখার আহ্বান জানান নেতারা।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

পরিশেষে বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হেফাজত নেতারা বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকারকে দেশ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয়

৫ মে ‘গণহত্যা’র বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের প্রতি হেফাজতে ইসলামের জোর দাবি

২ মে ২০২৬, ৮:৪৮

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘গণহত্যা’র বিচার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দলটির আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ দাবি জানান।

একইসঙ্গে শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী দোয়া ও আলোচনা সভার কর্মসূচি ঘোষণা করে এতে দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা জানান, ৫ মে’র ওই নৃশংস ঘটনার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে শাপলা চত্বরের ওই খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শক্ত আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পরিকল্পিত ওই গণহত্যায় অগণিত ধর্মপ্রাণ মানুষ শহীদ হয়েছিলেন এবং হাজার হাজার আলেম, হাফেজ ও নবীপ্রেমিক জনতা আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেন।”

হেফাজতের শীর্ষ এই দুই নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যার পর যদি দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলো জোরালোভাবে মাঠে নামত, তবে পরবর্তীতে ‘চব্বিশের জুলাই ম্যাসাকার’ বা ছাত্র-জনতার ওপর ভয়াবহ গণহত্যার মতো ঘটনা জাতিকে দেখতে হতো না। তাদের মতে, তৎকালীন রাজনৈতিক দলগুলোর চরম ব্যর্থতা, ইসলামবিদ্বেষী সেক্যুলারদের উসকানি এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশের নীরবতার সুযোগ নিয়েই দেশে ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর উত্থান ঘটেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালে ইসলামবিদ্বেষী ও আধিপত্যবাদীদের ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ প্রজেক্টের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরের চেতনা যদি সেদিন রুখে না দাঁড়াত, তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আগেই হুমকির মুখে পড়ত। ইসলামপন্থি ও প্রতিবাদী আলেম-ওলামাদের যারা ‘অমানুষ’ হিসেবে চিত্রিত করতে চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাপলার এই রক্তাক্ত চেতনা সর্বদা জাগ্রত রাখার আহ্বান জানান নেতারা।

See also  আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না: অর্থমন্ত্রী

পরিশেষে বর্তমান সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হেফাজত নেতারা বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষায় সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকারকে দেশ পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।