বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লা: ১৭ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে ২৭ হাজার গ্রাহক

কুমিল্লাজুড়ে গত দুই দিনের শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অন্ধকারে বা মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন জেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপজেলাগুলো—আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, গত দুই দিনে এই ছয় উপজেলায় ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ছিঁড়ে গেছে ৭৩৮টি স্থানের তার। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ২৫টি স্পটে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে ৫৫০টি মিটার।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষায়। মঙ্গলবার সকালে অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি কিংবা চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল না রাখায় পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপে পড়তে হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চিত্র চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল এসব এলাকা। বিকেলে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি মেরামত করা সম্ভব হলেও অনেক ইউনিয়ন এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন। বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে কাজ চলছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কর্মীরা দিন-রাত মাঠপর্যায়ে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ৪টি সমিতির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরও অন্যান্য সাধারণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

জনপ্রিয়

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কুমিল্লা: ১৭ উপজেলায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে ২৭ হাজার গ্রাহক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৭

কুমিল্লাজুড়ে গত দুই দিনের শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বর্ষণে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া, তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ হাজার গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা অন্ধকারে বা মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতাধীন জেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় উপজেলাগুলো—আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সমিতির জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক দিলীপ চন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, গত দুই দিনে এই ছয় উপজেলায় ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ছিঁড়ে গেছে ৭৩৮টি স্থানের তার। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ২৫টি স্পটে লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নষ্ট হয়েছে ৫৫০টি মিটার।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষায়। মঙ্গলবার সকালে অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি কিংবা চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ঝড়ের পূর্বাভাস থাকলেও জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল না রাখায় পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপে পড়তে হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চিত্র চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিল এসব এলাকা। বিকেলে জাতীয় গ্রিডের প্রধান সংযোগটি মেরামত করা সম্ভব হলেও অনেক ইউনিয়ন এখনো অন্ধকারাচ্ছন্ন। বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি জানান, ভবানীপুর ও এগারোগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে কাজ চলছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

See also  কুমিল্লায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪৫

পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের কর্মীরা দিন-রাত মাঠপর্যায়ে মেরামত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ৪টি সমিতির মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরও অন্যান্য সাধারণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।