বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক নার্সিং কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা

বিশ্বব্যাপী দক্ষ পেশাজীবীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে কুমিল্লায় গোমতী নদীর তীরে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি মাধ্যমের নার্সিং কলেজ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদককে চিরতরে ‘না’ বলার শপথ নিয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানসহ উন্নত বিশ্বজুড়ে এখন দক্ষ নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ নার্সিং প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণে এবং দেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতেই কুমিল্লায় এই অত্যাধুনিক নার্সিং কলেজটি স্থাপন করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান থেকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন দক্ষ নার্স বিদেশে গিয়ে বছরে কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কুমিল্লার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া একান্ত প্রয়োজন।” এসময় উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থী করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানালে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের কেবল পড়ালেখায় নয়, বরং নৈতিকভাবেও দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এসময় তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাঠে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হাত তুলে সমস্বরে মাদককে ‘না’ বলার অঙ্গীকার করে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। বড় স্বপ্ন দেখো, পুরো পৃথিবীকে জানো, তবে অবশ্যই সৎ ও সুস্থ জীবনযাপন করবে।”

See also  আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ইসির

সিলভার ডেভেলপারস লিমিটেড, স্থানীয় দৈনিক ‘কুমিল্লার কাগজ’ এবং মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলভার ডেভেলপারসের পরিচালক অধ্যাপক ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মাহবুবুর রহমান এবং কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ‘বিবেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং টাউনহলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনের শেষ পর্যায়ে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।

জনপ্রিয়

কুমিল্লায় আন্তর্জাতিক নার্সিং কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ঘোষণা

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৪

বিশ্বব্যাপী দক্ষ পেশাজীবীর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে কুমিল্লায় গোমতী নদীর তীরে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি মাধ্যমের নার্সিং কলেজ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদককে চিরতরে ‘না’ বলার শপথ নিয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের এক বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানসহ উন্নত বিশ্বজুড়ে এখন দক্ষ নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ নার্সিং প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণে এবং দেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতেই কুমিল্লায় এই অত্যাধুনিক নার্সিং কলেজটি স্থাপন করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান থেকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন দক্ষ নার্স বিদেশে গিয়ে বছরে কোটি টাকার বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কুমিল্লার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, “কুমিল্লায় মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এই অঞ্চলে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া একান্ত প্রয়োজন।” এসময় উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থী করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানালে মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের কেবল পড়ালেখায় নয়, বরং নৈতিকভাবেও দৃঢ় হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করতে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এসময় তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাঠে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হাত তুলে সমস্বরে মাদককে ‘না’ বলার অঙ্গীকার করে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ। বড় স্বপ্ন দেখো, পুরো পৃথিবীকে জানো, তবে অবশ্যই সৎ ও সুস্থ জীবনযাপন করবে।”

See also  শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

সিলভার ডেভেলপারস লিমিটেড, স্থানীয় দৈনিক ‘কুমিল্লার কাগজ’ এবং মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলভার ডেভেলপারসের পরিচালক অধ্যাপক ফারুক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো. মাহবুবুর রহমান এবং কুমিল্লা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ‘বিবেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং টাউনহলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসবমুখর এই আয়োজনের শেষ পর্যায়ে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।