
কুমিল্লায় দিন দিন হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ২১ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন জানান, কুমিল্লায় বর্তমানে ২১ জন শিশু হাম আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত তিন শিশু ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তবে তাদের নমুনা পরীক্ষা এখনো করা হয়নি এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা এবং বাকি দুইজন তিতাস উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে জেলায় মোট ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং আক্রান্তদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।
এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাম আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা গেছে।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন’ নামে পৃথক একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৫ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মা জানান, হাসপাতালে বেড সংকট থাকায় অনেক রোগীকেই মেঝেতে চাটাই বিছিয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্য এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, একই কক্ষে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের থাকার কারণে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, হাসপাতালে ৫২টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে শিশু রোগীর সংখ্যা ১৭৯ জন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেককে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টিকা ও চিকিৎসা সেবায় কোনো অবহেলা করছে না বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং অভিভাবকদের শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 

















