
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের কালাকচুয়া গ্রামে ইস্টজোন ফিলিং স্টেশনের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১১৩১) চট্টগ্রামমুখী লেনে দ্রুতগতিতে চলার সময় একই দিকে যাওয়া একটি প্রাইভেট কারকে (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-১৯৪৬) ডান পাশ থেকে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দেয়। বাসের আঘাতে প্রাইভেট কারটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ঘটনার সময় প্রাইভেট কারে চালকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। প্রচণ্ড আঘাতে গাড়িচালক জামাল হোসেন (৫২) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। তাঁর বাড়ি বরিশালে।
গাড়িতে থাকা অন্য পাঁচজন যাত্রী নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার চাতারপাইয়া গ্রামের একই পরিবারের সদস্য। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন পরিবারের কর্তা আব্দুল মমিন (৫০), তাঁর স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) এবং মেয়ে লাবিবা (১৮)।
তবে একই পরিবারের আরেক সদস্য আবরার (১২) — আব্দুল মমিনের পুত্র অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার অফিসার ইনচার্জ। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।
একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের একসঙ্গে মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারা শিশু আবরারের ভবিষ্যৎ নিয়েও মানবিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সচেতন মহলে।
আবু সাঈদ 

















