
পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি ঘটিয়ে আগামীকাল শনিবার দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য প্রধান ঈদ জামাতের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক মাসব্যাপী কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মাঠটি নামাজ উপযোগী করে তোলা হয়েছে। এ কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা বাস্তবায়ন করেছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
মাঠ প্রস্তুত করতে শতাধিক কর্মী দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং কাঠামো শক্ত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনেরও বেশি রশি। আবহাওয়ার প্রতিকূলতা মোকাবিলায় প্যান্ডেলের ওপর টানানো হয়েছে প্রায় ১,৯০০টি ত্রিপল। আলোর জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ৯০০টি টিউবলাইট।
এবারের প্রধান জামাতকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে একটি বিষয়—দীর্ঘ ৩৬ বছর পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও এই জামাতে অংশগ্রহণ করবেন। ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব।

ভিআইপি অতিথিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য পৃথক আসন ব্যবস্থা রয়েছে। সাধারণ মুসল্লিদের জন্যও পৃথকভাবে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩,৫০০ নারীর নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে পর্দার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ময়দানে মোট ১২১টি কাতার সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে বড় ও ছোট কাতার আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল প্যান্ডেলে ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে স্থান পূর্ণ হয়ে গেলে আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মুসল্লি জামাতে অংশ নিতে পারবেন।
মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য প্যান্ডেলের ভেতরে ১,১০০টি ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে সিলিং ও স্ট্যান্ড ফ্যান রয়েছে। ভিআইপি কাতারে রাখা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ওজুর জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পুরুষ ও নারীরা আলাদাভাবে ওজু করতে পারবেন। পাশাপাশি সুপেয় পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রবেশের জন্য চারটি ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নামাজ শেষে দ্রুত বের হওয়ার জন্য সাতটি প্রস্থান পথ রাখা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য দুটি মেডিকেল টিম প্রস্তুত থাকবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদে সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের আগেই ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে নামাজ আদায় করা যায়।
অনলাইন ডেস্ক 

















