বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আতঙ্কে তেল কিনছে মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সংকটে বাংলাদেশে জ্বালানি চাপ, কমছে সরবরাহ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে রেশনিংসহ নানা সাশ্রয়ী পদক্ষেপ চালু করেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্যও জোরালো চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে তা দিয়ে ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন এবং অকটেন প্রায় ২৮ দিন চলতে পারে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের মজুত প্রায় ৯৩ দিন এবং জেট ফুয়েল দিয়ে প্রায় ৫৫ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এবং গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতটি জাহাজে জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় এগুলোর সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসে প্রকৃত চাপ দেখা দিতে পারে।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই ভবিষ্যতে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় আগেভাগেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখছেন। বিপিসি কর্মকর্তারা এ পরিস্থিতিকে মূলত “প্যানিক বায়িং” বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

See also  আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ইসির

জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে কৃষি খাত ছাড়া শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহার সাময়িকভাবে সীমিত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি ছাড়া দেশের অন্যান্য সার কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মজুতদারি ও অবৈধ বিক্রি ঠেকাতে মাঠে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম কাজ শুরু করেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনোভাবেই খোলা ড্রাম বা কনটেইনারে জ্বালানি বিক্রি না করা হয়।

জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির জন্য সরকার বর্তমানে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন–এর বিভিন্ন সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোকেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতনতা ও জ্বালানি ব্যবহারে সংযমই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অন্যথায় সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

আতঙ্কে তেল কিনছে মানুষ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সংকটে বাংলাদেশে জ্বালানি চাপ, কমছে সরবরাহ

৬ মার্চ ২০২৬, ২:১৯

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে রেশনিংসহ নানা সাশ্রয়ী পদক্ষেপ চালু করেছে।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্যও জোরালো চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)–এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে তা দিয়ে ডিজেল প্রায় ১৪ দিন, পেট্রোল ১৫ দিন এবং অকটেন প্রায় ২৮ দিন চলতে পারে। এছাড়া ফার্নেস অয়েলের মজুত প্রায় ৯৩ দিন এবং জেট ফুয়েল দিয়ে প্রায় ৫৫ দিন চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এবং গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতটি জাহাজে জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, পেট্রোল ও অকটেন দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় এগুলোর সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আগামী মাসে প্রকৃত চাপ দেখা দিতে পারে।

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেকেই ভবিষ্যতে জ্বালানি ঘাটতির আশঙ্কায় আগেভাগেই গাড়ির ট্যাংক পূর্ণ করে রাখছেন। বিপিসি কর্মকর্তারা এ পরিস্থিতিকে মূলত “প্যানিক বায়িং” বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে কৃষি খাত ছাড়া শিল্প খাতে গ্যাস ব্যবহার সাময়িকভাবে সীমিত করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি ছাড়া দেশের অন্যান্য সার কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মজুতদারি ও অবৈধ বিক্রি ঠেকাতে মাঠে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম কাজ শুরু করেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন কোনোভাবেই খোলা ড্রাম বা কনটেইনারে জ্বালানি বিক্রি না করা হয়।

জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানির জন্য সরকার বর্তমানে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং চীন–এর বিভিন্ন সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতির মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে জনগণকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোকেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় নাগরিকদের সচেতনতা ও জ্বালানি ব্যবহারে সংযমই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অন্যথায় সামনে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।