রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ত্যাগ করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি গুলশানে নিজের বাসভবনে ফিরে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটে তার গাড়িবহর যমুনা প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি গুলশানের উদ্দেশে রওনা দেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের মতো বিদায়ের মুহূর্তেও ছিল সংযত ও প্রটোকলনির্ভর পরিবেশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেন ড. ইউনূস। ৮ আগস্ট তাকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। সে সময় ‘যমুনা’কে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও সরকারি বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। প্রশাসনিক পুনর্গঠন, নির্বাচন আয়োজন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ছিল সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর পর থেকেই ড. ইউনূস সরকারি বাসভবন ছাড়ার প্রস্তুতি নেন।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘যমুনা’ ভবনটি এখন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এ লক্ষ্যে ভবনটিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করা হবে। সংস্কার শেষে নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠবেন।
এক সময় অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক এই ভবনটি গত দেড় বছরে দেশের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভবনটি আবারও প্রশাসনিক গুরুত্ব বহন করবে।
দায়িত্ব ছাড়ার আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস মিরপুরে তার প্রতিষ্ঠিত ইউনূস সেন্টার পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি সামাজিক ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দেন। ঘনিষ্ঠজনদের মতে, এখন তিনি গবেষণা, সামাজিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বক্তৃতা কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারেন।
গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি অধ্যায় সমাপ্ত করলেন ড. ইউনূস। তবে ভবিষ্যতে নীতি-পরামর্শ বা সামাজিক উদ্যোগে তার সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।
অনলাইন ডেস্ক 


















