বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্রগ্রাম বন্দরে পাঁচ মাসে রেকর্ড ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজস্ব আদায়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শুরুতে ছিল ৯২ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চট্টগ্রাম কাস্টমস রেকর্ড পরিমাণ ৩১ হাজার ৬০২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে ইতিবাচক ধারার সূচনা করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়। চলতি অর্থবছরে রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য বেড়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমদানির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করছি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব হবে।”

তবে সেবা প্রাপ্তিতে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে সার্ভার জটিলতা এবং পণ্য পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এসব প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আরও সহজ হবে।

বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে দেশের মোট আমানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য ওঠানামা করেছে।

বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানান, ২০২৫ সালে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। একইভাবে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এছাড়া গত এক বছরে ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বন্দর।

See also  চান্দিনায় নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার

বিশ্বমানের বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেম ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস রিপোর্টে বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ‘জিরো অবজারভেশন’ পাওয়া আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ।

সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে বন্দরে নতুন ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ ও অত্যাধুনিক হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। ভারী কার্গো সামলানোর জন্য লালদিয়া এলাকায় নতুন জেটি নির্মাণাধীন রয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। সেখানে একটি মাল্টিপারপাস ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতির আওতায় এর একটি পরিচালনা করবে সিঙ্গাপুরের পিএসএ এবং অন্যটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মেরিটাইম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয়

চট্রগ্রাম বন্দরে পাঁচ মাসে রেকর্ড ৩১ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়

৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৫:৪৭

দেশের অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজস্ব আদায়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ১ লাখ ২ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শুরুতে ছিল ৯২ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চট্টগ্রাম কাস্টমস রেকর্ড পরিমাণ ৩১ হাজার ৬০২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করে ইতিবাচক ধারার সূচনা করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হয়। চলতি অর্থবছরে রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুল্কায়নযোগ্য পণ্যের পরিমাণ ও মূল্য বেড়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, “রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমদানির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করছি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করা সম্ভব হবে।”

তবে সেবা প্রাপ্তিতে এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম। তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে সার্ভার জটিলতা এবং পণ্য পরীক্ষায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এসব প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ আরও সহজ হবে।

বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে দেশের মোট আমানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫ সালে বন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ পণ্য ওঠানামা করেছে।

বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানান, ২০২৫ সালে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০৭ শতাংশ বেশি। একইভাবে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এছাড়া গত এক বছরে ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বন্দর।

See also  শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

বিশ্বমানের বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক পোর্ট ইকোসিস্টেম ও ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউএস কোস্টগার্ডের আইপিএস রিপোর্টে বন্দরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় ‘জিরো অবজারভেশন’ পাওয়া আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি বড় প্রমাণ।

সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে বন্দরে নতুন ৭০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ ও অত্যাধুনিক হ্যান্ডলিং ইকুইপমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। ভারী কার্গো সামলানোর জন্য লালদিয়া এলাকায় নতুন জেটি নির্মাণাধীন রয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হিসেবে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। সেখানে একটি মাল্টিপারপাস ও দুটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতির আওতায় এর একটি পরিচালনা করবে সিঙ্গাপুরের পিএসএ এবং অন্যটি দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মেরিটাইম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।