বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আলোচনার শেষ ধাপে জামায়াত ও এনসিপি

৫০ থেকে ৩০ আসনে সমঝোতার গুঞ্জন, যে কোনো সময় জামায়াত – এনসিপি জোট ঘোষণা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট নিয়ে আলোচনায় বসেছে এনসিপি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জনের মধ্যেই বিবিসি বাংলাকে আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এদিকে, এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী’ এবং ‘তরুণ্যের রাজনীতির কবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আব্দুল কাদের এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন এবং ভেতরের বেশ কিছু তথ্য ফাঁস করেন।

আব্দুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরাসরি জোটবদ্ধ হচ্ছে। তিনি লিখেন, “সারাদেশের মানুষ ও নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকালই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এনসিপি কার্যত জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে।

ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের আসন সমঝোতার অভ্যন্তরীণ দর কষাকষির তথ্যও তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, এনসিপি শুরুতে জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করেছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ৩০টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।

জোটের শর্ত অনুযায়ী, সমঝোতা হওয়া ৩০টি আসন ছাড়া বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না। ওই আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্ত মেনে নিয়েছে তারা।

আব্দুল কাদের আরও দাবি করেন, এনসিপির জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তাও পরোক্ষভাবে জামায়াতই নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি লিখেন, সমঝোতার ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপির একজনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন জামায়াতের অন্যতম আস্থাভাজন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। জামায়াতের পক্ষে থাকছেন ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই দুজন মিলে এনসিপির ৩০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

See also  আগস্টে ইউপি নির্বাচনের তফসিল, অক্টোবরে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ইসির

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপির সাথে তাদের আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে। তবে আব্দুল কাদেরের অভিযোগ বা আসন সংখ্যার বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই জোট এবং আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়, তবে আগামী নির্বাচনে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। তবে দলের অভ্যন্তরে এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা দেখার বিষয়।

জনপ্রিয়

আলোচনার শেষ ধাপে জামায়াত ও এনসিপি

৫০ থেকে ৩০ আসনে সমঝোতার গুঞ্জন, যে কোনো সময় জামায়াত – এনসিপি জোট ঘোষণা

২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:১০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাথে আসন সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট নিয়ে আলোচনায় বসেছে এনসিপি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জনের মধ্যেই বিবিসি বাংলাকে আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এদিকে, এই সম্ভাব্য জোট নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী’ এবং ‘তরুণ্যের রাজনীতির কবর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আব্দুল কাদের এই সমঝোতা প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করেন এবং ভেতরের বেশ কিছু তথ্য ফাঁস করেন।

আব্দুল কাদের তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, এনসিপি শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরাসরি জোটবদ্ধ হচ্ছে। তিনি লিখেন, “সারাদেশের মানুষ ও নেতাকর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে গুটিকয়েক নেতার স্বার্থ হাসিল করতেই এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকালই এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।”

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এনসিপি কার্যত জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে।

ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের আসন সমঝোতার অভ্যন্তরীণ দর কষাকষির তথ্যও তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, এনসিপি শুরুতে জামায়াতের কাছে ৫০টি আসন দাবি করেছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত ৩০টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।

জোটের শর্ত অনুযায়ী, সমঝোতা হওয়া ৩০টি আসন ছাড়া বাকি ২৭০টি আসনে এনসিপি কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না। ওই আসনগুলোতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্ত মেনে নিয়েছে তারা।

আব্দুল কাদের আরও দাবি করেন, এনসিপির জন্য বরাদ্দকৃত ৩০ আসনে কারা প্রার্থী হবেন, তাও পরোক্ষভাবে জামায়াতই নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি লিখেন, সমঝোতার ৩০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব জামায়াতের পক্ষ থেকে এনসিপির একজনকে দেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন জামায়াতের অন্যতম আস্থাভাজন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। জামায়াতের পক্ষে থাকছেন ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এই দুজন মিলে এনসিপির ৩০ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।

See also  আগামী অর্থবছরে বিড়ির দাম বাড়বে না: অর্থমন্ত্রী

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন যে, এনসিপির সাথে তাদের আসন সমঝোতার আলোচনা চলছে। তবে আব্দুল কাদেরের অভিযোগ বা আসন সংখ্যার বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই জোট এবং আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়, তবে আগামী নির্বাচনে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। তবে দলের অভ্যন্তরে এবং তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে এটি কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা দেখার বিষয়।