
আজ ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’। দুই হাজার ২২ বছর আগে এই মহিমান্বিত দিনে ফিলিস্তিনের বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার, মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা এবং পৃথিবীতে শান্তির বাণী ছড়িয়ে দিতেই তাঁর আগমন ঘটেছিল।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আচার-অনুষ্ঠান ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটির দিন।
খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, যিশু হলেন ঈশ্বরের পুত্র। মানবজাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে ঐশী শক্তিতে মাতা মেরীর কোলে তাঁর অলৌকিক জন্ম হয়। ৩০ বছর বয়সে তিনি প্রকাশ্যে ধর্ম প্রচার শুরু করেন। তাঁর এই জন্মতিথিকে ঘিরে খ্রিস্টান সম্প্রদায় দিনটিকে ‘শুভ বড়দিন’ হিসেবে পালন করে আসছে। এই উৎসবের মূল অনুষঙ্গ হলো—গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, শিশুদের মাঝে উপহার বিতরণ এবং বড়দিনের বিশেষ গান ও বন্দনা সংগীত পরিবেশন।
বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তির ঐতিহ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে।
বড়দিন ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গির্জাগুলো সেজেছে নতুন আঙ্গিকে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন গির্জা ও অভিজাত হোটেলগুলোতে বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়েছে। রাজধানীর তারকা হোটেলগুলোর ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম ক্রিসমাস ট্রি এবং সান্তা ক্লজ, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কাড়ছে।
অনেক খ্রিস্টান পরিবারে আজ কেক তৈরি ও বিশেষ খাবারের আয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় গানের আসর ও কীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল রাতে গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবং আজ সকাল থেকেও চলছে বড়দিনের প্রার্থনা।
বড়দিনের উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএমপি আইনের ২৮ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল। নগরবাসীকে এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

















