বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্রোহী কবির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ওসমান হাদি

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে রওনা দেয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দাফনের আগে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঢল নামে ছাত্র-জনতার। এ সময় সেখানে উপস্থিত পরিবার, সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরীফ ওসমান হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. আব্দুল আহাদ জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে একটি গুলি সরাসরি তার মাথায় লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে রাতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়।

শরীফ ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে ছাত্র রাজনীতি ও বিপ্লবের অগ্রযাত্রায় এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার
জনপ্রিয়

বিদ্রোহী কবির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ওসমান হাদি

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:৫৪

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখে রওনা দেয়। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দাফনের আগে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঢল নামে ছাত্র-জনতার। এ সময় সেখানে উপস্থিত পরিবার, সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এর আগে সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শরীফ ওসমান হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের (এনএইচএ) সদস্যসচিব ডা. আব্দুল আহাদ জানান, বেলা পৌনে ১২টার দিকে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হলে একটি গুলি সরাসরি তার মাথায় লাগে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে রাতে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়।

শরীফ ওসমান হাদির এই অকাল মৃত্যুতে ছাত্র রাজনীতি ও বিপ্লবের অগ্রযাত্রায় এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা।

See also  কুমিল্লায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪৫