বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আহতদের চিকিৎসা ব্যয় নেবে জামায়াত, গঠন সমন্বয় কমিটি

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা; নিহতদের মরদেহ বাড়ি নিতে অ্যাম্বুলেন্স দিচ্ছে জামায়াত

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা। পরে তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হতাহতদের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জামায়াত নেতারা জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর একটি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কামরুজ্জামান সোহেলকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

See also  চান্দিনায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি ও চোর গ্রেপ্তার

এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

আহতদের চিকিৎসা ব্যয় নেবে জামায়াত, গঠন সমন্বয় কমিটি

কুমিল্লায় ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা; নিহতদের মরদেহ বাড়ি নিতে অ্যাম্বুলেন্স দিচ্ছে জামায়াত

২২ মার্চ ২০২৬, ৭:৫৫

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা। পরে তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হতাহতদের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

জামায়াত নেতারা জানান, আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকির জন্য ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)-এর একটি দল সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কামরুজ্জামান সোহেলকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে কোনো গেটম্যান বা নাইট গার্ড না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

See also  শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

এ ঘটনায় রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।