সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

মসজিদভিত্তিক রাজনীতি: নববী আদর্শ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রয়োগ

ইসলামের ইতিহাসে মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববী নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন কীভাবে একটি মসজিদ ন্যায়, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র হতে পারে।

• নববী যুগে মসজিদভিত্তিক রাজনীতি- মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর নবী করিম (সা.)-এর সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো মসজিদ থেকে। নামাজ, শিক্ষা, বিচার, যুদ্ধনীতি, দাওয়াত, এমনকি বিদেশি দূতদের গ্রহণ—সবকিছুই পরিচালিত হতো মসজিদে নববী থেকে। সহীহ বুখারি (হাদীস: ৪৩৩) ও সহীহ মুসলিম (হাদীস: ৫২৪)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করিম (সা.) মসজিদে নববী নির্মাণের পর এখান থেকেই মুসলমানদের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সাহাবাদের মসজিদে একত্র করে পরামর্শ করতেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯; তাফসিরে ইবনে কাসির)

নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাব চাওয়া হবে।” (সহীহ বুখারি, হাদীস: ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৯)

এই হাদীস ইসলামী রাজনীতির মৌলিক নীতি—জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ—স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

• নববী রাজনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

১. মসজিদ ছিল প্রশাসনিক ও পরামর্শ কেন্দ্র।

২. শুরা (পরামর্শ) ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলনীতি।

“তুমি তাদের ব্যাপারে পরামর্শ গ্রহণ কর।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯)

৩. রাজনীতি ছিল দায়িত্ব ও আমানতের ক্ষেত্র।

“নেতৃত্ব একটি আমানত…” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৫)

৪. ধর্মীয় সহাবস্থান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। মদিনা সনদে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের অধিকার সংরক্ষিত ছিল।

• জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নববী আদর্শের অনুসারী একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন, যার মূল ভিত্তি মসজিদ ও সমাজকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড। দলটির রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন হলো—রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সেবা ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে মসজিদকে কেন্দ্র করেই শিক্ষা, দাওয়াত, সমাজকল্যাণ ও নেতৃত্ব বিকাশের কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই তারা স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত দাওয়াতি সভা, কোরআন শিক্ষা, সমাজসেবা ও শুরাভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তা যথাযথভাবে পালন করে, সে হবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ার নিচে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৭)

এই হাদীস জামাতে ইসলামী নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ববোধের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মসজিদভিত্তিক রাজনীতি ইসলামের মৌলিক ঐতিহ্য, যা নবী করিম (সা.)-এর যুগে বাস্তবায়িত হয়েছিল ন্যায়, সেবা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সেই ঐতিহ্যের আধুনিক ধারক—যারা রাজনীতিকে দেখেছে ইবাদত ও দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা নয়।

আজকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নৈতিক শূন্যতার সময়ে নববী মডেলের মসজিদভিত্তিক রাজনীতি হতে পারে একটি আলোকবর্তিকা—যেখানে শাসনের মূলে থাকবে আল্লাহভীতি, শুরা ও মানবকল্যাণ।

– লেখক- আব্দুর রহিম

সাবেক শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

মসজিদভিত্তিক রাজনীতি: নববী আদর্শ ও জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রয়োগ

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ৩:০৯

ইসলামের ইতিহাসে মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয়, বরং সমাজ, শিক্ষা, রাজনীতি ও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় হিজরতের পর মসজিদে নববী নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন কীভাবে একটি মসজিদ ন্যায়, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র হতে পারে।

• নববী যুগে মসজিদভিত্তিক রাজনীতি- মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর নবী করিম (সা.)-এর সকল রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো মসজিদ থেকে। নামাজ, শিক্ষা, বিচার, যুদ্ধনীতি, দাওয়াত, এমনকি বিদেশি দূতদের গ্রহণ—সবকিছুই পরিচালিত হতো মসজিদে নববী থেকে। সহীহ বুখারি (হাদীস: ৪৩৩) ও সহীহ মুসলিম (হাদীস: ৫২৪)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করিম (সা.) মসজিদে নববী নির্মাণের পর এখান থেকেই মুসলমানদের ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন: “রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সাহাবাদের মসজিদে একত্র করে পরামর্শ করতেন।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯; তাফসিরে ইবনে কাসির)

নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জবাব চাওয়া হবে।” (সহীহ বুখারি, হাদীস: ৮৯৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৯)

এই হাদীস ইসলামী রাজনীতির মৌলিক নীতি—জবাবদিহিতা ও দায়িত্ববোধ—স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

• নববী রাজনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

১. মসজিদ ছিল প্রশাসনিক ও পরামর্শ কেন্দ্র।

২. শুরা (পরামর্শ) ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলনীতি।

“তুমি তাদের ব্যাপারে পরামর্শ গ্রহণ কর।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯)

৩. রাজনীতি ছিল দায়িত্ব ও আমানতের ক্ষেত্র।

“নেতৃত্ব একটি আমানত…” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৫)

৪. ধর্মীয় সহাবস্থান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। মদিনা সনদে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের অধিকার সংরক্ষিত ছিল।

• জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নববী আদর্শের অনুসারী একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন, যার মূল ভিত্তি মসজিদ ও সমাজকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড। দলটির রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন হলো—রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, বরং সেবা ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের একটি মাধ্যম।

জামায়াতে ইসলামী মনে করে, ইসলামী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে মসজিদকে কেন্দ্র করেই শিক্ষা, দাওয়াত, সমাজকল্যাণ ও নেতৃত্ব বিকাশের কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যেই তারা স্থানীয় মসজিদে নিয়মিত দাওয়াতি সভা, কোরআন শিক্ষা, সমাজসেবা ও শুরাভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তা যথাযথভাবে পালন করে, সে হবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ার নিচে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৮২৭)

এই হাদীস জামাতে ইসলামী নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ববোধের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মসজিদভিত্তিক রাজনীতি ইসলামের মৌলিক ঐতিহ্য, যা নবী করিম (সা.)-এর যুগে বাস্তবায়িত হয়েছিল ন্যায়, সেবা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সেই ঐতিহ্যের আধুনিক ধারক—যারা রাজনীতিকে দেখেছে ইবাদত ও দায়িত্ব হিসেবে, ক্ষমতা নয়।

আজকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নৈতিক শূন্যতার সময়ে নববী মডেলের মসজিদভিত্তিক রাজনীতি হতে পারে একটি আলোকবর্তিকা—যেখানে শাসনের মূলে থাকবে আল্লাহভীতি, শুরা ও মানবকল্যাণ।

– লেখক- আব্দুর রহিম

সাবেক শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।