সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

গোমতীর চরে আগাম ফুলকপির বাম্পার সম্ভাবনা — বাজারে নামতে আর ২০–২৫ দিন

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—গোমতী নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সারি সারি ফুলকপির গাছ সবুজে ঢেকে গেছে চরের মাটি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক পেরিয়ে সুবর্ণপুরে ঢুকতেই চোখে পড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা—কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার দিচ্ছেন, আবার কেউ গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন। উর্বর চরের এসব জমিতে এবার আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষে নেমেছেন বিপুল সংখ্যক কৃষক।

২০ দিনের মধ্যে বাজারে; সুবর্ণপুরের চাষিরা জানান, প্রায় এক মাস আগে রোপণ করা ফুলকপির চারা এখন গাছে গাছে কলি ধারণ করেছে। রাতের হালকা শীত, বৃষ্টির পানি নামার পর অনুকূল আবহাওয়া—সব মিলিয়ে ফলন দেখে আত্মবিশ্বাসী কৃষকেরা বলছেন, সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ২০–২৫ দিনের মধ্যেই বাজারে তুলতে পারবেন প্রথম দফার ফুলকপি। আগাম মৌসুমে বাজারে নামতে পারলে ভালো দাম মিলবে বলে আশাবাদী তারা।

সত্তরোর্ধ্ব আবদুস সাত্তার—গোমতীর এই চরে দুই দশকেরও বেশি সময় কৃষিকাজ করছেন। পুরোনো কর্মজীবনে তিনি ছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মচারী। এখন ২৪ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার ফুলকপির চারা লাগিয়েছেন। তিনি বলেন,

“প্রতি হাজার চারা ২ হাজার টাকা দরে কিনছি। এখন পর্যন্ত খরচ পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ১৫ দিনের মধ্যে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করি। বাজারে দাম ভালো, সব ঠিক থাকলে লাভও ভালো হবে।

সুবর্ণপুর ছাড়াও পাশের অরণ্যপুর, জালুয়াপাড়া, সামারচর, ছাওয়ারপুর ও গাজীপুর চরে ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র—সবজিক্ষেতে ফুলকপির কচি সাদা কলি উঁকি দিচ্ছে পাতার আড়াল থেকে। কৃষকেরা এখন যত্নে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

চরের আরেক কৃষক আবু সাঈদ ১৬ শতাংশ জমিতে লাগিয়েছেন ২ হাজার ফুলকপির চারা। ফলন দেখে সন্তুষ্ট তিনি বলেন,

“আগে সার দিলে গাছের শক্তি বাড়ে, কপি তাড়াতাড়ি বড় হয়। বাজারে শীতের আগে দাম ভালো থাকে—ওই সময় তুলতে পারলে লাভ হবে।”

See also  কুমিল্লার নতুন এসপি আনিসুজ্জামান

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ না পেলে ফলাফলে প্রভাব পড়ে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, গোমতী নদীর চরাঞ্চলের মাটি সবজি উৎপাদনে বিশেষভাবে উপযোগী। পানি নিষ্কাশন ভালো হওয়ায় এসব অঞ্চলে প্রতিবছরই আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চাষ হয়।

তিনি বলেন, “এ বছর চরাঞ্চলে আগাম ফুলকপির আবাদ বেশি হয়েছে। বৃষ্টি থেমেছে, রাতের তাপমাত্রা কমছে—এতে দ্রুতই কপি বাজারে আসবে। কৃষকেরা এবার ভালো মূল্য পাবেন বলে আমাদের ধারণা।

Tag :

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

গোমতীর চরে আগাম ফুলকপির বাম্পার সম্ভাবনা — বাজারে নামতে আর ২০–২৫ দিন

২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১:২৪

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে—গোমতী নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সারি সারি ফুলকপির গাছ সবুজে ঢেকে গেছে চরের মাটি। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক পেরিয়ে সুবর্ণপুরে ঢুকতেই চোখে পড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা—কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার দিচ্ছেন, আবার কেউ গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন। উর্বর চরের এসব জমিতে এবার আগাম শীতকালীন সবজি ফুলকপি চাষে নেমেছেন বিপুল সংখ্যক কৃষক।

২০ দিনের মধ্যে বাজারে; সুবর্ণপুরের চাষিরা জানান, প্রায় এক মাস আগে রোপণ করা ফুলকপির চারা এখন গাছে গাছে কলি ধারণ করেছে। রাতের হালকা শীত, বৃষ্টির পানি নামার পর অনুকূল আবহাওয়া—সব মিলিয়ে ফলন দেখে আত্মবিশ্বাসী কৃষকেরা বলছেন, সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ২০–২৫ দিনের মধ্যেই বাজারে তুলতে পারবেন প্রথম দফার ফুলকপি। আগাম মৌসুমে বাজারে নামতে পারলে ভালো দাম মিলবে বলে আশাবাদী তারা।

সত্তরোর্ধ্ব আবদুস সাত্তার—গোমতীর এই চরে দুই দশকেরও বেশি সময় কৃষিকাজ করছেন। পুরোনো কর্মজীবনে তিনি ছিলেন সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মচারী। এখন ২৪ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার ফুলকপির চারা লাগিয়েছেন। তিনি বলেন,

“প্রতি হাজার চারা ২ হাজার টাকা দরে কিনছি। এখন পর্যন্ত খরচ পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। ১৫ দিনের মধ্যে বিক্রি শুরু হবে বলে আশা করি। বাজারে দাম ভালো, সব ঠিক থাকলে লাভও ভালো হবে।

সুবর্ণপুর ছাড়াও পাশের অরণ্যপুর, জালুয়াপাড়া, সামারচর, ছাওয়ারপুর ও গাজীপুর চরে ঘুরেও দেখা গেছে একই চিত্র—সবজিক্ষেতে ফুলকপির কচি সাদা কলি উঁকি দিচ্ছে পাতার আড়াল থেকে। কৃষকেরা এখন যত্নে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

চরের আরেক কৃষক আবু সাঈদ ১৬ শতাংশ জমিতে লাগিয়েছেন ২ হাজার ফুলকপির চারা। ফলন দেখে সন্তুষ্ট তিনি বলেন,

“আগে সার দিলে গাছের শক্তি বাড়ে, কপি তাড়াতাড়ি বড় হয়। বাজারে শীতের আগে দাম ভালো থাকে—ওই সময় তুলতে পারলে লাভ হবে।”

See also  আবারো ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ না পেলে ফলাফলে প্রভাব পড়ে।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, গোমতী নদীর চরাঞ্চলের মাটি সবজি উৎপাদনে বিশেষভাবে উপযোগী। পানি নিষ্কাশন ভালো হওয়ায় এসব অঞ্চলে প্রতিবছরই আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চাষ হয়।

তিনি বলেন, “এ বছর চরাঞ্চলে আগাম ফুলকপির আবাদ বেশি হয়েছে। বৃষ্টি থেমেছে, রাতের তাপমাত্রা কমছে—এতে দ্রুতই কপি বাজারে আসবে। কৃষকেরা এবার ভালো মূল্য পাবেন বলে আমাদের ধারণা।