সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটি টাকার ওষুধ দুর্নীতি

  • Reporter Name
  • ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:১১
  • 16

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কেনা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের চিত্র, যা শুধু অর্থনৈতিক নয়, রোগীর জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, থায়োপেনটাল সোডিয়াম নামক জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশনের দাম দেখানো হয়েছে ১,২৯৯ টাকা, অথচ বাজার মূল্য মাত্র ১০১ টাকা। এই একটি ইনজেকশনেই প্রায় ৪৮ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মেডিকেল পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ সোহাগের স্বাক্ষরিত চাহিদাপত্রে।

প্রয়োজন ছিল ১০ মি.গ্রা. এরোভাসটাটিন ট্যাবলেট, কিনে ফেলা হয়েছে ২০ মি.গ্রা. মাত্রার প্রায় ৯ লাখ ট্যাবলেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ ওষুধ শেষ হতে সময় লাগবে অন্তত ২০ বছর, যা চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর প্রভাবশালী নেতাদের ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে। কুমিল্লা মহানগর ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার অভিযোগ করেন, সভাপতি এম এম হাসানের নির্দেশে তাকে ব্যবহার করে ৮০ লাখ টাকা টেন্ডার বাণিজ্য করা হয়েছে। তবে এম এম হাসান এই অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল ড্যাব সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ড্যাব পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ সোহাগ অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ” বলে অভিহিত করেছেন। ইনজেকশনের অতিরিক্ত দামের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন— এটি “প্রিন্টিং মিস্টেক”।

এই দুর্নীতির ঘটনায় শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেই যদি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়, তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

See also  দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক

এখন প্রশ্ন উঠছে— কেন্দ্রীয় তদন্তে কি সত্যিই অপরাধীরা ধরা পড়বে, নাকি অন্যান্য কেলেঙ্কারির মতো এই ঘটনাও আড়ালের আড়ালে হারিয়ে যাবে?

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটি টাকার ওষুধ দুর্নীতি

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:১১

অনলাইন ডেস্ক:

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ কেনা ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের চিত্র, যা শুধু অর্থনৈতিক নয়, রোগীর জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, থায়োপেনটাল সোডিয়াম নামক জীবনরক্ষাকারী ইনজেকশনের দাম দেখানো হয়েছে ১,২৯৯ টাকা, অথচ বাজার মূল্য মাত্র ১০১ টাকা। এই একটি ইনজেকশনেই প্রায় ৪৮ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে মেডিকেল পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ সোহাগের স্বাক্ষরিত চাহিদাপত্রে।

প্রয়োজন ছিল ১০ মি.গ্রা. এরোভাসটাটিন ট্যাবলেট, কিনে ফেলা হয়েছে ২০ মি.গ্রা. মাত্রার প্রায় ৯ লাখ ট্যাবলেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিমাণ ওষুধ শেষ হতে সময় লাগবে অন্তত ২০ বছর, যা চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ)-এর প্রভাবশালী নেতাদের ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যারা টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করছে। কুমিল্লা মহানগর ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. আরিফ হায়দার অভিযোগ করেন, সভাপতি এম এম হাসানের নির্দেশে তাকে ব্যবহার করে ৮০ লাখ টাকা টেন্ডার বাণিজ্য করা হয়েছে। তবে এম এম হাসান এই অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্রীয় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল ড্যাব সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ড্যাব পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তদন্ত ছাড়া কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজ সোহাগ অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ” বলে অভিহিত করেছেন। ইনজেকশনের অতিরিক্ত দামের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন— এটি “প্রিন্টিং মিস্টেক”।

এই দুর্নীতির ঘটনায় শুধু সরকারি অর্থের অপচয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসার ওপর আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জীবনরক্ষাকারী ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেই যদি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়, তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

See also  কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ

এখন প্রশ্ন উঠছে— কেন্দ্রীয় তদন্তে কি সত্যিই অপরাধীরা ধরা পড়বে, নাকি অন্যান্য কেলেঙ্কারির মতো এই ঘটনাও আড়ালের আড়ালে হারিয়ে যাবে?