সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

গণজাগরণে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের পতন দিবস আজ

ছালাউদ্দিন রিপনঃ 

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি এখন আর শুধুই একটি তারিখ নয়—এটি এক নতুন যুগের সূচনা, এক দীর্ঘ প্রতিরোধের গন্তব্যে পৌঁছানোর দিন। এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে পতনের পরিণতি ভোগ করে। এদিন জনগণ শুধু একজন স্বৈরাচার শাসককে বিদায় দেয়নি, তারা বিদায় জানিয়েছে এক দমনমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে। একদলীয় দখলদারি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে জনতা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।

গণআন্দোলনের শুরু: কোটা সংস্কার থেকে ফ্যাসিবাদ পতন, সবকিছু শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে। তাদের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্যহীন কোটা সংস্কার। কিন্তু সরকার সেই দাবি শুনেনি। বরং শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করা হয়, ‘রাজাকার’ বলা হয়—যা আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ১৪ জুলাইয়ের সেই মন্তব্যের পর সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। আন্দোলন আর শুধু কোটা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রূপ নেয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক সংগ্রামে। ১৬ জুলাই আসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। রংপুরের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। একইদিন চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ আরও ছয়জন। এই খবর ভাইরাল হলে দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ভয়-ভীতি, কারফিউ আর প্রতিবাদ: স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার আন্দোলন দমাতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে। গ্রেফতার করা হয় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকদেরও। ছয়জন আন্দোলনকারী সমন্বয়কারীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বার্তা প্রচার করানো হয়। তারপরও আন্দোলন থামেনি। বরং ‘এক দফা—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। ৫ আগস্ট সকাল থেকে সরকার ঢাকায় কারফিউ জারি করে। ফোনে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়, বলা হয়—‘রাস্তায় নামলে মৃত্যু নিশ্চিত’। কিন্তু দুপুরের মধ্যেই কারফিউ ভেঙে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশের বাধা, টিয়ার গ্যাস, গুলি—কিছুতেই থামানো যায়নি জনস্রোত। ঠিক তখনই আসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর—স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

এক স্বৈরাচারের পতন, এক জাতির উত্থান: দুপুর ৩:৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং ক্ষমতা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে। জাতি হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠকে গৃহীত হয় পাঁচটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত:

  • সংসদ ভেঙে দেওয়া
  • অন্তর্বর্তী সরকার গঠন
  • বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি
  • অবাধ নির্বাচন
  • শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব
  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন।

বিশ্বমিডিয়ার প্রতিক্রিয়া ও জনগণের স্বীকৃতি: সারা বিশ্বে এই পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ। “Fall of the Last South Asian Autocrat”, “People’s Revolution in Bangladesh”—এই শিরোনামগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোড়ন তোলে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ওআইসি, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইরান—সবাই অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশের জনগণকে।

শহীদদের রক্তে লেখা ৫ আগস্ট: সরকারি হিসাবে ৮৩৪ জন শহীদ হলেও স্বাধীন গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়—১৪০০-এরও বেশি মানুষ এই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছেন, অন্ধ হয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের স্মরণে ৫ আগস্টকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘শহীদ দিবস’। এই দিন শুধু একটি সরকার পতনের দিন নয়, এটি এক জাতির পুনর্জন্মের দিন। একটি ভয়ের, অন্যায়ের, গুম-খুনের রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিন।

শেষ কথা: ইতিহাসের গতিপথ বদলায় তরুণরাই, যে তরুণরা আগে ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ নিয়ে কথা বলত, তারা নিজেরাই ২০২৪ সালে গড়েছে নতুন ইতিহাস। প্রিয় নবী (সা.) বলেছিলেন, মজলুমের দোয়া ফেরে না। আর আল্লাহ বলেন, “তুমি যার ইচ্ছা থেকে রাজত্ব কেড়ে নাও, যার ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দাও” (সুরা আল ইমরান: ২৬)।

আজ ৫ আগস্ট সেই সত্যের বাস্তব রূপ। এটি থাকবে বাংলাদেশের সাহসী মানুষের, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার ত্যাগ, সংগ্রাম আর বিজয়ের চিরন্তন স্মারক হয়ে।

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

গণজাগরণে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের পতন দিবস আজ

৫ অগাস্ট ২০২৫, ১১:১৪

ছালাউদ্দিন রিপনঃ 

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি এখন আর শুধুই একটি তারিখ নয়—এটি এক নতুন যুগের সূচনা, এক দীর্ঘ প্রতিরোধের গন্তব্যে পৌঁছানোর দিন। এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়। স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে পতনের পরিণতি ভোগ করে। এদিন জনগণ শুধু একজন স্বৈরাচার শাসককে বিদায় দেয়নি, তারা বিদায় জানিয়েছে এক দমনমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে। একদলীয় দখলদারি, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও বাকস্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে জনতা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম।

গণআন্দোলনের শুরু: কোটা সংস্কার থেকে ফ্যাসিবাদ পতন, সবকিছু শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে। তাদের দাবি ছিল সরকারি চাকরিতে বৈষম্যহীন কোটা সংস্কার। কিন্তু সরকার সেই দাবি শুনেনি। বরং শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করা হয়, ‘রাজাকার’ বলা হয়—যা আন্দোলনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ১৪ জুলাইয়ের সেই মন্তব্যের পর সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। আন্দোলন আর শুধু কোটা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা রূপ নেয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক সংগ্রামে। ১৬ জুলাই আসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। রংপুরের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। একইদিন চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ আরও ছয়জন। এই খবর ভাইরাল হলে দেশের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

ভয়-ভীতি, কারফিউ আর প্রতিবাদ: স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সরকার আন্দোলন দমাতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে। গ্রেফতার করা হয় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকদেরও। ছয়জন আন্দোলনকারী সমন্বয়কারীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বার্তা প্রচার করানো হয়। তারপরও আন্দোলন থামেনি। বরং ‘এক দফা—শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ এই স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। ৫ আগস্ট সকাল থেকে সরকার ঢাকায় কারফিউ জারি করে। ফোনে ফোনে হুমকি দেওয়া হয়, বলা হয়—‘রাস্তায় নামলে মৃত্যু নিশ্চিত’। কিন্তু দুপুরের মধ্যেই কারফিউ ভেঙে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশের বাধা, টিয়ার গ্যাস, গুলি—কিছুতেই থামানো যায়নি জনস্রোত। ঠিক তখনই আসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর—স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।

এক স্বৈরাচারের পতন, এক জাতির উত্থান: দুপুর ৩:৪৫ মিনিটে সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন এবং ক্ষমতা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে। জাতি হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় বৈঠকে গৃহীত হয় পাঁচটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত:

  • সংসদ ভেঙে দেওয়া
  • অন্তর্বর্তী সরকার গঠন
  • বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি
  • অবাধ নির্বাচন
  • শহীদদের স্মরণে শোক প্রস্তাব
  • ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন।

বিশ্বমিডিয়ার প্রতিক্রিয়া ও জনগণের স্বীকৃতি: সারা বিশ্বে এই পরিবর্তন নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদ। “Fall of the Last South Asian Autocrat”, “People’s Revolution in Bangladesh”—এই শিরোনামগুলো আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোড়ন তোলে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ওআইসি, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, ইরান—সবাই অভিনন্দন জানায় বাংলাদেশের জনগণকে।

শহীদদের রক্তে লেখা ৫ আগস্ট: সরকারি হিসাবে ৮৩৪ জন শহীদ হলেও স্বাধীন গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়—১৪০০-এরও বেশি মানুষ এই আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়েছেন, অন্ধ হয়েছেন, নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের স্মরণে ৫ আগস্টকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘শহীদ দিবস’। এই দিন শুধু একটি সরকার পতনের দিন নয়, এটি এক জাতির পুনর্জন্মের দিন। একটি ভয়ের, অন্যায়ের, গুম-খুনের রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার দিন।

শেষ কথা: ইতিহাসের গতিপথ বদলায় তরুণরাই, যে তরুণরা আগে ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ নিয়ে কথা বলত, তারা নিজেরাই ২০২৪ সালে গড়েছে নতুন ইতিহাস। প্রিয় নবী (সা.) বলেছিলেন, মজলুমের দোয়া ফেরে না। আর আল্লাহ বলেন, “তুমি যার ইচ্ছা থেকে রাজত্ব কেড়ে নাও, যার ইচ্ছা তাকে রাজত্ব দাও” (সুরা আল ইমরান: ২৬)।

আজ ৫ আগস্ট সেই সত্যের বাস্তব রূপ। এটি থাকবে বাংলাদেশের সাহসী মানুষের, বিশেষ করে ছাত্র-জনতার ত্যাগ, সংগ্রাম আর বিজয়ের চিরন্তন স্মারক হয়ে।