সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

“আমারে মাইরা ফেলেন, তাও দিমু না” বুলডোজারের নিচে অটোচালকের বুকফাটা আর্তনাদ

তাসনীম আলম সাকিব (ঢাকা)-

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলছে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যৌথ অভিযান। ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং এবং সড়ক ব্যবহারবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চালানো হচ্ছে এই কঠোর ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এই অভিযানেরই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়ে যায় এক ভিডিওতে, যা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এক অটোচালক কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমারে মা*ইরা ফেলেন তাও দিমু না… আমার অটোটা ছাইড়া দেন ভাইজ্ঞেন না… ইটাই আমার সংসার, ইটাই আমার রুটিরুজি।”

তার সেই অটোই ছিল শেষ সম্বল। কিন্তু বুলডোজারের এক ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল তার স্বপ্ন, ভেঙে গেল জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, একাধিকবার সতর্ক করার পরও সড়ক ও ফুটপাতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ না হওয়ায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ঢাকার যানজট ও দুর্ঘটনা কমানো যায়।”

যদিও প্রশাসনের এই অভিযান আইনি দিক থেকে যথার্থ, তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে মানবিক দিকটি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ঢাকার অনেক নিম্নআয়ের মানুষ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার চালায়, সন্তানদের স্কুলে পাঠায়। তাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে, কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই যদি এই অভিযান চলে, তাহলে এক শ্রেণির মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, “আমরা আইন মানতে চাই, কিন্তু আমাদের বাঁচার একটা উপায় তো দিন। এই অটো লোনে কিনছি, এখনও কিস্তি বাকি আছে। এখন আমি কী করবো?

ঢাকা শহরে বর্তমানে আনুমানিক ৫০,০০০-এর বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, যার বড় অংশই লাইসেন্সবিহীন। এসব গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে আইন লঙ্ঘন করলেও, বাস্তবতা হলো—এটি একটি অর্থনৈতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। চালকদের পেছনে রয়েছে গ্যারেজ মালিক, লিজদাতা, এমনকি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কিছু প্রভাবশালী মহল।

See also  বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে শুধু চালককে নয়, পুরো চেইনকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দরকার একটি টেকসই পুনর্বাসন নীতি।

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে সেটি যেন কাউকে নিঃস্ব না করে দেয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও মানবিক পদ্ধতি, যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়, আবার জীবিকার অধিকারও রক্ষা পায়।

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

“আমারে মাইরা ফেলেন, তাও দিমু না” বুলডোজারের নিচে অটোচালকের বুকফাটা আর্তনাদ

১৩ মে ২০২৫, ১০:০৪

তাসনীম আলম সাকিব (ঢাকা)-

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলছে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) যৌথ অভিযান। ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং এবং সড়ক ব্যবহারবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী চালানো হচ্ছে এই কঠোর ব্যবস্থা। এর অংশ হিসেবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলোকেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

এই অভিযানেরই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য ধরা পড়ে যায় এক ভিডিওতে, যা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এক অটোচালক কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমারে মা*ইরা ফেলেন তাও দিমু না… আমার অটোটা ছাইড়া দেন ভাইজ্ঞেন না… ইটাই আমার সংসার, ইটাই আমার রুটিরুজি।”

তার সেই অটোই ছিল শেষ সম্বল। কিন্তু বুলডোজারের এক ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল তার স্বপ্ন, ভেঙে গেল জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, একাধিকবার সতর্ক করার পরও সড়ক ও ফুটপাতে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ না হওয়ায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে ঢাকার যানজট ও দুর্ঘটনা কমানো যায়।”

যদিও প্রশাসনের এই অভিযান আইনি দিক থেকে যথার্থ, তবে সমালোচকরা বলছেন, এতে মানবিক দিকটি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। ঢাকার অনেক নিম্নআয়ের মানুষ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার চালায়, সন্তানদের স্কুলে পাঠায়। তাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে, কোনো পুনর্বাসন ছাড়াই যদি এই অভিযান চলে, তাহলে এক শ্রেণির মানুষ চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চালক বলেন, “আমরা আইন মানতে চাই, কিন্তু আমাদের বাঁচার একটা উপায় তো দিন। এই অটো লোনে কিনছি, এখনও কিস্তি বাকি আছে। এখন আমি কী করবো?

ঢাকা শহরে বর্তমানে আনুমানিক ৫০,০০০-এর বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে, যার বড় অংশই লাইসেন্সবিহীন। এসব গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে আইন লঙ্ঘন করলেও, বাস্তবতা হলো—এটি একটি অর্থনৈতিক চক্রের সঙ্গে যুক্ত। চালকদের পেছনে রয়েছে গ্যারেজ মালিক, লিজদাতা, এমনকি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকা কিছু প্রভাবশালী মহল।

See also  মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে শুধু চালককে নয়, পুরো চেইনকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দরকার একটি টেকসই পুনর্বাসন নীতি।

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে সেটি যেন কাউকে নিঃস্ব না করে দেয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও মানবিক পদ্ধতি, যাতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়, আবার জীবিকার অধিকারও রক্ষা পায়।