সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

স্বাধীনতার পর দল নিষিদ্ধ শুরু হয় আ. লীগের হাতেই

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি চিরন্তন চিত্র—ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, আর ক্ষমতা হারালে নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া। একদা যিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন, ইতিহাস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সেই একই পথে। এবার সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি শুরু করেছিল। ধর্মভিত্তিক দল, স্বাধীনতা বিরোধী দল ও বামপন্থিদের একাংশকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় জাতি গঠনের যুক্তিতে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার তাগিদে নেওয়া সেই পদক্ষেপ ইতিহাসের পাতায় আলোচিত-সমালোচিত দুই-ই।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে গঠিত হয় বাকশাল—একদলীয় শাসনের প্রতিচ্ছবি। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর একুশের ট্র্যাজেডি এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি। পরে সামরিক শাসকরা আবার রাজনৈতিক মাঠ খুলে দিলেও রাজনীতির ধারাটা আর কখনোই শুদ্ধভাবে প্রবাহিত হয়নি।

আজ, প্রায় পাঁচ দশক পর ইতিহাস যেন নতুন মোড় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি দল নয়, বরং আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি দল নিষিদ্ধ না করে কার্যক্রম বন্ধের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—যে আইন একসময় আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছিল। এই আইনের আওতায়ই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, হিজবুত তাহরির, জেএমবি, এমনকি সর্বশেষ ছাত্রলীগও নিষিদ্ধ হয়।

এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক আবহের আমূল পরিবর্তনই নয়, বরং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও এক গুরুতর সংকেত। কারণ, যে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাণ্ডারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে, সেই দলই এখন নির্বাচন কমিশনে নিজেদের নিবন্ধন রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত।

অনেকেই বলছেন—এই নিষেধাজ্ঞা কি রাজনৈতিক প্রতিশোধ, না কি একটি কাঠামোগত পুনর্গঠনের শুরু? এমন প্রশ্ন যখন উঠছে, তখনই ফিরে তাকাতে হয় অতীতে—যেখানে দেখা যায়, জামায়াত বা অন্যান্য দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল কিংবা কার্যক্রম নিষিদ্ধের পেছনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কতটা ছিল আর আইন কতটা বলবত ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক ছিলই। একই বিতর্ক এবার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও মাথাচাড়া দিতে পারে।

রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা মানে মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা নয়—তা যেন আমাদের রাষ্ট্র বারবার মনে করিয়ে দেয়। কারণ, দমন যত বেশি, প্রতিরোধ তত বেশি সংঘবদ্ধ হয়। একদা যারা নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই আজ নিষিদ্ধ—এ যেন সময়ের নির্মম প্রতিফলন।

প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামীতে কারা এই চক্রে পড়বে? কিংবা, সত্যিই কি আমরা একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের দিকে যাচ্ছি, নাকি কেবল এক নিষিদ্ধের পালা থেকে আরেক নিষেধাজ্ঞার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছি?

লেখক- ছালাউদ্দিন (রিপন)

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

স্বাধীনতার পর দল নিষিদ্ধ শুরু হয় আ. লীগের হাতেই

১২ মে ২০২৫, ৫:৫১

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি চিরন্তন চিত্র—ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, আর ক্ষমতা হারালে নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া। একদা যিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন, ইতিহাস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সেই একই পথে। এবার সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ।

স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি শুরু করেছিল। ধর্মভিত্তিক দল, স্বাধীনতা বিরোধী দল ও বামপন্থিদের একাংশকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় জাতি গঠনের যুক্তিতে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার তাগিদে নেওয়া সেই পদক্ষেপ ইতিহাসের পাতায় আলোচিত-সমালোচিত দুই-ই।

১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে গঠিত হয় বাকশাল—একদলীয় শাসনের প্রতিচ্ছবি। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর একুশের ট্র্যাজেডি এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি। পরে সামরিক শাসকরা আবার রাজনৈতিক মাঠ খুলে দিলেও রাজনীতির ধারাটা আর কখনোই শুদ্ধভাবে প্রবাহিত হয়নি।

আজ, প্রায় পাঁচ দশক পর ইতিহাস যেন নতুন মোড় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি দল নয়, বরং আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি দল নিষিদ্ধ না করে কার্যক্রম বন্ধের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—যে আইন একসময় আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছিল। এই আইনের আওতায়ই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, হিজবুত তাহরির, জেএমবি, এমনকি সর্বশেষ ছাত্রলীগও নিষিদ্ধ হয়।

এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক আবহের আমূল পরিবর্তনই নয়, বরং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও এক গুরুতর সংকেত। কারণ, যে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাণ্ডারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে, সেই দলই এখন নির্বাচন কমিশনে নিজেদের নিবন্ধন রক্ষার লড়াইয়ে ব্যস্ত।

অনেকেই বলছেন—এই নিষেধাজ্ঞা কি রাজনৈতিক প্রতিশোধ, না কি একটি কাঠামোগত পুনর্গঠনের শুরু? এমন প্রশ্ন যখন উঠছে, তখনই ফিরে তাকাতে হয় অতীতে—যেখানে দেখা যায়, জামায়াত বা অন্যান্য দলগুলোর নিবন্ধন বাতিল কিংবা কার্যক্রম নিষিদ্ধের পেছনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কতটা ছিল আর আইন কতটা বলবত ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক ছিলই। একই বিতর্ক এবার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও মাথাচাড়া দিতে পারে।

রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা মানে মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করা নয়—তা যেন আমাদের রাষ্ট্র বারবার মনে করিয়ে দেয়। কারণ, দমন যত বেশি, প্রতিরোধ তত বেশি সংঘবদ্ধ হয়। একদা যারা নিষিদ্ধ করেছিল, তারাই আজ নিষিদ্ধ—এ যেন সময়ের নির্মম প্রতিফলন।

প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে আগামীতে কারা এই চক্রে পড়বে? কিংবা, সত্যিই কি আমরা একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের দিকে যাচ্ছি, নাকি কেবল এক নিষিদ্ধের পালা থেকে আরেক নিষেধাজ্ঞার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছি?

লেখক- ছালাউদ্দিন (রিপন)