বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি চিরন্তন চিত্র—ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, আর ক্ষমতা হারালে নিষেধাজ্ঞার শিকার হওয়া। একদা যিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন, ইতিহাস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সেই একই পথে। এবার সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল—আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম সরকার হিসেবে আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি শুরু করেছিল। ধর্মভিত্তিক দল, স্বাধীনতা বিরোধী দল ও বামপন্থিদের একাংশকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় জাতি গঠনের যুক্তিতে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার তাগিদে নেওয়া সেই পদক্ষেপ ইতিহাসের পাতায় আলোচিত-সমালোচিত দুই-ই। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে গঠিত হয় বাকশাল—একদলীয় শাসনের প্রতিচ্ছবি। তবে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর একুশের ট্র্যাজেডি এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি। পরে সামরিক শাসকরা আবার রাজনৈতিক মাঠ খুলে দিলেও রাজনীতির ধারাটা আর কখনোই শুদ্ধভাবে প্রবাহিত হয়নি। আজ, প্রায় পাঁচ দশক পর ইতিহাস যেন নতুন মোড় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি দল নয়, বরং আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এটি দল নিষিদ্ধ না করে কার্যক্রম বন্ধের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। সন্ত্রাসবিরোধী আইনেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে—যে আইন একসময় আওয়ামী লীগই প্রণয়ন করেছিল। এই আইনের আওতায়ই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, হিজবুত তাহরির, জেএমবি, এমনকি সর্বশেষ ছাত্রলীগও নিষিদ্ধ হয়। এই পরিস্থিতি শুধু রাজনৈতিক আবহের আমূল পরিবর্তনই নয়, বরং ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও এক গুরুতর সংকেত। কারণ, যে দলটি দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাণ্ডারী...