সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

ইসলামের প্রথম ঈদ: কখন ও কিভাবে? -মো: ইমরান হোসেন

ইসলামের প্রথম ঈদ: কখন ও কিভাবে?

মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ঈদ এক অনন্য আনন্দ-উৎসব। কিন্তু এই পবিত্র দিনটির সূচনা কখন, কীভাবে হয়েছিল—তা অনেকেরই অজানা। আসুন, ফিরে দেখি ঈদ উদযাপনের ঐতিহাসিক পটভূমি।

প্রথম ঈদ উদযাপন: ইতিহাসের সূচনা

মুসলমানদের প্রথম ঈদ উদযাপন শুরু হয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার দ্বিতীয় বছরে। অর্থাৎ তখন রাসূল (সা.)-এর বয়স ৫৫ বছর এবং নবুয়তের ১৫তম বছর।

বেশির ভাগ আলেমের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে ঈদের বিধান প্রবর্তিত হয়।

দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রোজা ফরজ হয়। এ হিসাবে দ্বিতীয় হিজরিতেই ঈদের নামাজের বিধান প্রবর্তিত হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ৫/৫৪)

মহানবী (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে স্থানীয় ইহুদিরা শরতের পূর্ণিমায় নওরোজ এবং বসন্তের পূর্ণিমায় মেহেরজান নামে দুটি উৎসব পালন করে। এই উৎসবে তারা নানা ধরনের আনন্দ-উৎসব, খেলাধুলা ও আনুষ্ঠানিকতা করত।

রাসূল (সা.) এ দুটি উৎসব মুসলমানদের জন্য নিরুৎসাহিত করেন এবং বলেন— “মহান আল্লাহ তোমাদের ওই উৎসবের পরিবর্তে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র দুটি দিন দান করেছেন, যাতে তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করতে পারো।”

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়:
“মহানবী (সা.) যখন মদিনায় আসেন, তখন মদিনাবাসীর জন্য দুটি উৎসবের দিন ছিল। তিনি জানতে চাইলেন, ‘এই দিন দুটি কীসের?’ তারা বলল, ‘আমরা জাহেলি যুগ থেকে এ দুই দিন খেলাধুলা ও উৎসব করে আসছি।’ তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’” (নাসায়ি: ১৫৫৬, আবু দাউদ: ১১৩৪)

ঈদ ও ইসলামী সংস্কৃতি:

উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলাম পূর্ববর্তী যুগের বিভিন্ন সংস্কৃতির ভ্রান্ত রীতিগুলো পরিবর্তন করে মুসলমানদের জন্য নতুন, শুদ্ধ এবং পবিত্র দুটি উৎসব নির্ধারণ করা হয়, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

ঈদের দিন মহানবী (সা.) ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতেন। শিশুদের আনন্দ দিতে তিনি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং মুসলমানদের বৈধ ও শরীয়তসম্মত আনন্দ-উৎসবের অনুমতি দিতেন।

তবে বর্তমান সময়ের মতো বাজি ফুটানো, গান-বাজনা, অপসংস্কৃতি বা শরীয়তবহির্ভূত কার্যকলাপ ঈদের অংশ ছিল না। বরং ঈদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার চর্চা করা। আমাদেরও উচিত সেই শিক্ষা গ্রহণ করে শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে ঈদ উদযাপন করা।

দ্বিতীয় হিজরির উল্লেখযোগ্য ঘটনা:

ঈদের প্রবর্তন ছাড়াও দ্বিতীয় হিজরি ছিল ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এ বছরেই সংঘটিত হয় কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা—

✅ কিবলা পরিবর্তন: মুসলমানদের নামাজের দিক বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কা’বাকে পরিবর্তন করা হয়।

✅ বদরের যুদ্ধ: ইসলামের প্রথম যুদ্ধ, যেখানে মুসলমানরা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

✅ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা রুকাইয়া (রা.)-এর ইন্তেকাল।

✅ হযরত আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-এর বিবাহ।

✅ যাকাতের নিসাব নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি অভিযান সংঘটিত হয়।

 

আমাদের দায়িত্ব হলো ঈদের এই পবিত্র দিনগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং শরীয়তের সীমানার মধ্যে থেকে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা।

আল্লাহ আমাদের ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন!

 

লেখক:-

মো: ইমরান হোসেন।

Tag :

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

ইসলামের প্রথম ঈদ: কখন ও কিভাবে? -মো: ইমরান হোসেন

৩০ মার্চ ২০২৫, ৪:০৭

ইসলামের প্রথম ঈদ: কখন ও কিভাবে?

মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে ঈদ এক অনন্য আনন্দ-উৎসব। কিন্তু এই পবিত্র দিনটির সূচনা কখন, কীভাবে হয়েছিল—তা অনেকেরই অজানা। আসুন, ফিরে দেখি ঈদ উদযাপনের ঐতিহাসিক পটভূমি।

প্রথম ঈদ উদযাপন: ইতিহাসের সূচনা

মুসলমানদের প্রথম ঈদ উদযাপন শুরু হয় রাসূলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করার দ্বিতীয় বছরে। অর্থাৎ তখন রাসূল (সা.)-এর বয়স ৫৫ বছর এবং নবুয়তের ১৫তম বছর।

বেশির ভাগ আলেমের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে ঈদের বিধান প্রবর্তিত হয়।

দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রোজা ফরজ হয়। এ হিসাবে দ্বিতীয় হিজরিতেই ঈদের নামাজের বিধান প্রবর্তিত হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নেহায়া : ৫/৫৪)

মহানবী (সা.) যখন মদিনায় আগমন করেন, তখন তিনি দেখতে পান যে স্থানীয় ইহুদিরা শরতের পূর্ণিমায় নওরোজ এবং বসন্তের পূর্ণিমায় মেহেরজান নামে দুটি উৎসব পালন করে। এই উৎসবে তারা নানা ধরনের আনন্দ-উৎসব, খেলাধুলা ও আনুষ্ঠানিকতা করত।

রাসূল (সা.) এ দুটি উৎসব মুসলমানদের জন্য নিরুৎসাহিত করেন এবং বলেন— “মহান আল্লাহ তোমাদের ওই উৎসবের পরিবর্তে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো পবিত্র দুটি দিন দান করেছেন, যাতে তোমরা পবিত্রতার সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করতে পারো।”

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে পাওয়া যায়:
“মহানবী (সা.) যখন মদিনায় আসেন, তখন মদিনাবাসীর জন্য দুটি উৎসবের দিন ছিল। তিনি জানতে চাইলেন, ‘এই দিন দুটি কীসের?’ তারা বলল, ‘আমরা জাহেলি যুগ থেকে এ দুই দিন খেলাধুলা ও উৎসব করে আসছি।’ তখন রাসূল (সা.) বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।’” (নাসায়ি: ১৫৫৬, আবু দাউদ: ১১৩৪)

ঈদ ও ইসলামী সংস্কৃতি:

উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলাম পূর্ববর্তী যুগের বিভিন্ন সংস্কৃতির ভ্রান্ত রীতিগুলো পরিবর্তন করে মুসলমানদের জন্য নতুন, শুদ্ধ এবং পবিত্র দুটি উৎসব নির্ধারণ করা হয়, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

ঈদের দিন মহানবী (সা.) ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতেন। শিশুদের আনন্দ দিতে তিনি তাদের সঙ্গে সময় কাটাতেন এবং মুসলমানদের বৈধ ও শরীয়তসম্মত আনন্দ-উৎসবের অনুমতি দিতেন।

তবে বর্তমান সময়ের মতো বাজি ফুটানো, গান-বাজনা, অপসংস্কৃতি বা শরীয়তবহির্ভূত কার্যকলাপ ঈদের অংশ ছিল না। বরং ঈদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার চর্চা করা। আমাদেরও উচিত সেই শিক্ষা গ্রহণ করে শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে ঈদ উদযাপন করা।

দ্বিতীয় হিজরির উল্লেখযোগ্য ঘটনা:

ঈদের প্রবর্তন ছাড়াও দ্বিতীয় হিজরি ছিল ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এ বছরেই সংঘটিত হয় কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা—

✅ কিবলা পরিবর্তন: মুসলমানদের নামাজের দিক বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কা’বাকে পরিবর্তন করা হয়।

✅ বদরের যুদ্ধ: ইসলামের প্রথম যুদ্ধ, যেখানে মুসলমানরা ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

✅ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা রুকাইয়া (রা.)-এর ইন্তেকাল।

✅ হযরত আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-এর বিবাহ।

✅ যাকাতের নিসাব নির্ধারণসহ বেশ কয়েকটি অভিযান সংঘটিত হয়।

 

আমাদের দায়িত্ব হলো ঈদের এই পবিত্র দিনগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং শরীয়তের সীমানার মধ্যে থেকে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা।

আল্লাহ আমাদের ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন!

 

লেখক:-

মো: ইমরান হোসেন।