সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার ঢাকাস্থ চান্দিনা ছাত্র কল্যাণ সমিতির ২০২৫–২৬ অর্থবছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা উইন্ডোজের বিকল্প অপারেটিং সিস্টেম আনছে গুগল, পিসিতেই মিলবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস: নিহত প্রায় ৬০০, নিখোঁজ শতাধিক দেবিদ্বারে গাঁজাসহ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আটক কুমিল্লা ফুডপান্ডায় নিয়োগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াও আবেদনের সুযোগ বুড়িচংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ দুটি ঘর পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা অবস্থা ‘অপরিবর্তিত’ এখনও ‘শঙ্কামুক্ত নন’ বেগম খালেদা জিয়া মঞ্চে লাল গালিচার ব্যবহার কীভাবে এলো? জানুন এর ইতিহাস

বাংলাদেশের কারণে কাঁদছে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পেঁয়াজ বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অন্যতম প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে তারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে। পাকিস্তান ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করায় নয়াদিল্লির রপ্তানি বাজারে ধস নেমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত একাধিকবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাস রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারত। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ তখন কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে ঘন ঘন রপ্তানি নীতির পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানায়।

এক সময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ যেত বাংলাদেশে। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ খুব সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ নিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ নিচ্ছে না। রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি সরকার ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছে। ইয়েমেন ও ইরান থেকে কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যাওয়ায় তারা সেদিকে ঝুঁকেছে।

রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশ সেই বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে ভারতের বাজারে আধিপত্য আরও দুর্বল হচ্ছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা আমাদের বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করছে।

See also  হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

একজন রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, “আমাদের পেঁয়াজের মান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আদায় করতে পারতাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা যখন বাজারে ছিলাম না, তখন ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন তারা আর মান দেখে না, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো কত কম দামে পেঁয়াজ দিচ্ছে সেটিই বিবেচনা করে।

বর্তমানে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। ঐতিহ্যগত ক্রেতা হারানোর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি ভারতের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভারত নিজেই তার বাজার দুর্বল করেছে।

সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস

চান্দিনায় চুরির জেরে রাজনৈতিক দুই দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চিলোড়া বাজার

বাংলাদেশের কারণে কাঁদছে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা

২৮ নভেম্বর ২০২৫, ২:৫১

ভারতের পেঁয়াজ বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অন্যতম প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও বর্তমানে তারা বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকেছে। পাকিস্তান ও চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করায় নয়াদিল্লির রপ্তানি বাজারে ধস নেমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত একাধিকবার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প বাজার খুঁজে নিয়েছে এবং ধীরে ধীরে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আরও পাঁচ মাস রপ্তানি বন্ধ রাখে ভারত। এতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বাংলাদেশ তখন কূটনৈতিকভাবে ভারতের কাছে ঘন ঘন রপ্তানি নীতির পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি জানায়।

এক সময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ যেত বাংলাদেশে। কিন্তু গত আট মাসে বাংলাদেশ খুব সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭.২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন পেঁয়াজ নিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ নিচ্ছে না। রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি সরকার ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছে। ইয়েমেন ও ইরান থেকে কম দামে পেঁয়াজ পাওয়া যাওয়ায় তারা সেদিকে ঝুঁকেছে।

রপ্তানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, ভারতের পেঁয়াজের বীজ অবৈধভাবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। এসব দেশ সেই বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে এবং ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। এতে ভারতের বাজারে আধিপত্য আরও দুর্বল হচ্ছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য পাশা প্যাটেল সতর্ক করে বলেছেন, “আমরা শুধু ঐতিহ্যগত ক্রেতাদের হারাইনি, তারা আমাদের বীজ ব্যবহার করে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করছে।

See also  শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা

একজন রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, “আমাদের পেঁয়াজের মান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আদায় করতে পারতাম। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা যখন বাজারে ছিলাম না, তখন ক্রেতারা বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন তারা আর মান দেখে না, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো কত কম দামে পেঁয়াজ দিচ্ছে সেটিই বিবেচনা করে।

বর্তমানে ভারতের পেঁয়াজ বাজারে বড় ধাক্কা লেগেছে। ঐতিহ্যগত ক্রেতা হারানোর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি ভারতের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভারত নিজেই তার বাজার দুর্বল করেছে।

সূত্র: ইকোনোমিক টাইমস