
প্রথমবারের মতো অ্যাপের মাধ্যমে বিদেশে থাকা ভোটাররা ভোট দেবেন ‘প্রতীক চিহ্ন’ দিয়ে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোট প্রদানের সুযোগ তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে কাল বুধবার থেকে বিশ্বজুড়ে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। নিবন্ধন চলবে ধাপে ধাপে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন একটি বিশেষ অ্যাপের উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।
ইসি সূত্র জানায়, অঞ্চলভেদে নিবন্ধনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে: পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ৫২টি দেশ: ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত, উত্তর আমেরিকার ১৪টি দেশ ও ওশানিয়া অঞ্চলের ২ দেশ: ২৪–২৮ নভেম্বর, ইউরোপের ৪২টি দেশ: ২৯ নভেম্বর–৩ ডিসেম্বর, মধ্যপ্রাচ্য (সৌদি আরব): ৪–৮ ডিসেম্বর।
প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে, তখন অ্যাপে প্রত্যেক ভোটার তার নিজ আসনের প্রার্থী ও প্রতীক দেখতে পারবেন।
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার ও একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালটে পছন্দের প্রতীকের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে ভোট প্রদান করতে হবে।
যে আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকবেন, সেই ক্ষেত্রে প্রবাসী ভোটাররা ‘না’ ভোট দেওয়ারও সুযোগ পাবেন।
ভোট প্রদান শেষে ব্যালট ও ঘোষণাপত্র রিটার্ন খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। ডাকমাশুল আগেই পরিশোধ করা থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান।
ইসি জানিয়েছে, ব্যালটের সঙ্গে সংযুক্ত ঘোষণাপত্রে ভোটারকে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হবে। ভোটার নিজে ভোট দিয়েছেন—এ মর্মে ঘোষণাপত্রে উল্লেখ না থাকলে বা স্বাক্ষর না করলে সেই ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
শুধু প্রবাসী নয় আরও অনেকে পাবেন পোস্টাল ভোটের সুযোগ, প্রবাসী ভোটারদের পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো ভোটগ্রহণে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী এবং দেশের ৭১টি কারাগারের বন্দি ও কয়েদিরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। তাদের জন্য আলাদা নিবন্ধন পদ্ধতিও চালু করবে নির্বাচন কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রত্যাশা পূরণ হবে এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









