
ছালাউদ্দিন রিপন:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সমীকরণে মাঠে নামছে একাধিক দল। গত বছরের জুলাইয়ে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান পুনর্গঠনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘নির্বাচনি সমঝোতা’র পথে এগোচ্ছে।
জোট নয়, সমঝোতা—নতুন কৌশল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামিক দল এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করছে। যদিও দলগুলোর নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এটি কোনো নির্বাচনি জোট নয়, বরং আসনভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, “যার যেখানে যোগ্য প্রার্থী আছে, সেখানে ওই দলের প্রার্থী থাকবে, অন্যরা তাকে সমর্থন করবে।”
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দাবি, এই দলগুলো নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে সংখ্যানুপাতিক (PR) ভোট পদ্ধতির দাবি তুলেছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের জানান, “৩১টি দলের মধ্যে প্রায় ২৫টি দলই পিআর পদ্ধতির পক্ষে। বিএনপি ছাড়া প্রায় সব দলই এই বিষয়ে একমত।” দলগুলোর মতে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের সকল ভোটারের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব হবে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য, নির্বাচনি সমঝোতার পাশাপাশি দলগুলো ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে। গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, এনসিপি—এ ধরনের দেশপ্রেমিক দলগুলোর সঙ্গে ইসলামী দলগুলোর আলোচনা চলছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, “যদিও জোট নিয়ে আলোচনা হয়নি, তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।”
একদলীয় শাসনের বিপরীতে নতুন ধারা, আশরাফ আলী আকন মনে করেন, অতীতে নির্বাচনের পরপরই দেশে একদলীয় শাসন, মার্শাল ল কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতার নামে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। তিনি বলেন, “৭৩ সালের নির্বাচনের পর বাকশাল, জিয়াউর রহমানের মার্শাল ল, এমনকি পরবর্তী সময়ে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।”
তফসিলের পর চূড়ান্ত চিত্র, ইসলামিক দলগুলোর এই সমঝোতা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে তারা জোটে যাবে, নাকি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেবে। আপাতত দলগুলো পিআর পদ্ধতির দাবিতে একত্রিত হয়ে মাঠে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এই সমঝোতার ধারা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর। তবে দীর্ঘদিনের দলীয় মেরুকরণের বাইরে গিয়ে নতুন কৌশলে এগোতে চাওয়া দলগুলোর এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Reporter Name 













