ফরাসিতে একটি প্রবাদে আছে—Voyage forme la jeunesse (ভ্রমণ যৌবনকে গড়ে তোলে)। কিন্তু ভ্রমণ শুধু ব্যাগপ্যাক কাঁধে নিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর নাম নয়; বরং এটি মানুষের মানসিক দিগন্ত উন্মোচনের একটি প্রক্রিয়া। একাদশ শতকে আলবিরুনী কিতাবু তাহদিদিল আমাকিন লি-তাহকিকি মাসাফাতিল মাসাকিন (The determination of the coordinates of positions for the correction of distances between cities) গ্রন্থে লিখেছেন—ইসলামের বিস্তৃতি পশ্চিমে স্পেন (আন্দালুস) থেকে পূর্বে চীন সীমান্ত ও ভারতের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত, দক্ষিণে আবিসিনিয়া ও জানজ অঞ্চল থেকে শুরু করে আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং আরো পূর্বে মালয় দ্বীপপুঞ্জ ও জাভা পর্যন্ত আর উত্তরে তুর্কি ও স্লাভদের দেশ পর্যন্ত প্রসারিত ছিল। এই বিশাল অঞ্চলে বিভিন্ন মুসলিম শাসক স্বাধীনভাবে শাসন করলেও, সাধারণ ভ্রমণকারীরা তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্নে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে পারত। শুধু তাই নয়, বাগদাদের বাইতুল হিকমাহ (House of Wisdom) থেকে শুরু করে কর্ডোভার লাইব্রেরি পর্যন্ত প্রতিটি জ্ঞানকেন্দ্র ছিল জ্ঞানচর্চার উদ্দেশ্যে দেশান্তরী পণ্ডিতদের জন্য নিরাপদ সরাইখানা। অষ্টম শতাব্দীতে যখন পুরোনো লিনেন কাপড় আর জলচালিত মিলের মাধ্যমে কাগজ তৈরির বিপ্লব ঘটল, তখন জ্ঞানচর্চার উপকরণ সস্তা আরো সহজলভ্য হয়ে গেল। ফলে উট বা গাধার পিঠে শুধু মসলা বা রেশমই আসত না, আসত থরেথরে সাজানো পাণ্ডুলিপি। জ্ঞান অর্জনের এই অদম্য স্পৃহা মুসলিম মানচিত্রকে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করছিল। সেই যুগে মেধা আর সাহস যখন এক মোহনায় মিশত, তখন সাত সমুদ্র আর তেরো নদীও এক নিমিষেই হাতের...