
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চিলোড়া বাজারে এক দোকানে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে দুই ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) অঙ্গসংগঠন গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও এলডিপিপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে উত্তেজনা কমে আসে।

মসজিদ উন্নয়ন তহবিলসহ বিভিন্ন অনুদানের অর্থ স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ফখরুল ইসলামের মুদি দোকানে সংরক্ষণ করা হতো। শনিবার দিবাগত রাতে দোকানের তালা ভেঙে চুরি হলে সিসিটিভি ফুটেজে পাশের এতবারপুর গ্রামের রোকনের ছেলে রিফাত (১৫)-কে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
রবিবার দুপুরে রিফাতকে বাজারে দেখার পর এলাকাবাসী তাকে আটক করে বেধড়ক মারধর ও মাথা ন্যাড়া করে দেয়। এই ঘটনার জেরে রিফাতের এলাকার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রিফাতকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতবারপুর ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বিএনপিপন্থী কর্মীরা ফখরুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে বাজারের ব্যবসায়ীরাও হামলার শিকার হন।
হামলাকারীরা ছোটনের খাবার হোটেল, ফখরুলের ভাই হোসাইনের চায়ের দোকানসহ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ছোটনের হোটেল থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্তত ১টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং আরও ৪–৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী এবং গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ছোটন অভিযোগ করে বলেন, চুরির ঘটনার পর রিফাতকে আটকের জেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, চান্দিনা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হাজী নূরু ও পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক দোলনের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত যুবদল নেতা হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আমি সারাদিন কুমিল্লাতে অসুস্থ মায়ের সঙ্গেই ছিলাম। ঘটনাটি সম্পর্কে কিছুই জানি না।
উপজেলা এলডিপির সভাপতি একেএম শামসুল হক মাস্টারের দাবি, চান্দিনা আসনে বিএনপি প্রার্থী না দেওয়ায় আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু বিএনপি নেতা-সমর্থক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “এক শিশুকে সন্দেহজনকভাবে মারধর করার খবর শুনে আমাদের কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে প্রতিপক্ষ আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম জানান, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছালাউদ্দিন রিপন 









