
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় চালক ও ব্যবসায়ীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে গরুবাহী একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশের সহযোগিতা না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। কোন থানার দায়িত্ব—তা নিয়ে চান্দিনা ও দাউদকান্দি থানার মধ্যে দায় এড়ানোর চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৭ নভেম্বর) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় বনবিভাগ অফিসের সামনে। এর আগের দিনাজপুর থেকে ৮টি গরু নিয়ে একটি ট্রাক চট্টগ্রামগামী হয়। ভোরে দাউদকান্দি ব্রিজ অতিক্রমের কিছু দূরেই ছিনতাইকারীরা ট্রাকটির গতিরোধ করে।
ট্রাকচালক মো. রুকনুজ্জামান জানান, ভোরে ফাঁকা স্থানে সামনে আরেকটি গাড়ি ব্যারিকেড দিলে ট্রাক থামাতে বাধ্য হন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি তাকে নামিয়ে মারধর করে, হাত-পা বেঁধে একটি গাড়িতে তুলে ফেলে। এরপর ছিনতাইকারীরা ট্রাকটি চালিয়ে চান্দিনার কাঠেরপুল এলাকায় নিয়ে যায়।
সেখানে পৌঁছে ৮টির মধ্যে ৬টি গরু তাদের গাড়িতে তোলে। জায়গা কম থাকায় আরও ২টি গরু ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ছাড়ে তারা।
চালকের দাবি, ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাওয়ার মাত্র দুই মিনিট পরে একটি সিএনজিতে পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। সব বিস্তারিত জানালেও তারা প্রথমে ঘটনাস্থলে যেতে রাজি হননি। পরে জোর অনুরোধে পুলিশ ভুক্তভোগীদের একটি ভ্যানে তোলে, কিন্তু ছিনতাইকারীরা যে রাস্তা দিয়ে পালিয়েছে—সেদিকে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
তাদের বক্তব্য ছিল- এটা তাদের এলাকার দায়িত্ব নয়।
গরুর মালিক মোখলেছুর রহমান বলেন, “আমরা বারবার পুলিশকে ছিনতাইকারীদের পালানোর দিক দেখালেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো পাঁচ মিনিট ধরে ঘুরিয়ে একই স্থানে ফিরিয়ে আনে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থল চান্দিনা থানার হলেও চান্দিনা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ওসি জানান মামলাটি দাউদকান্দি থানার আওতাভুক্ত।
ছিনতাইয়ের সময় নিমসার দিকে যাচ্ছিলেন এমন এক স্থানীয় ব্যবসায়ী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও গাছের সঙ্গে বেঁধে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এতে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে যায়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে চান্দিনা থানার ওসি মো. জাবেদ উল ইসলাম দাবি করেন,
“ট্রাকটি দাউদকান্দি এলাকায় ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারীরা পরে ট্রাকটি কাঠেরপুল এলাকায় এনে গরু অন্য গাড়িতে তোলে। তাই ছিনতাইয়ের মূল ঘটনা দাউদকান্দিতে, ফলে মামলাও সেখানে হবে।
পুলিশ উপস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় পুলিশ ভ্যানে আমিই ছিলাম। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং মোবাইল পার্টিকে জানিয়েছি, কিন্তু ছিনতাইকারীদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দাউদকান্দি থানার ওসি জুনায়েদ চৌধুরী জানান, এই ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে যদি গরু স্থানান্তরের ঘটনাটি চান্দিনায় ঘটে থাকে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব চান্দিনা থানার।
ছিনতাইয়ের পর দ্রুত পুলিশি অভিযান না হওয়া এবং কোন থানা দায়িত্ব নেবে—তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও ব্যবসায়ী। তাদের দাবি—পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নিলে গরুগুলো উদ্ধার সম্ভব হতো।
মহাসড়কের অত্যন্ত ব্যস্ত এই এলাকায় পরপর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতাশাজনক বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি—মহাসড়কে টহল জোরদার করা এবং উভয় থানার সমন্বিত দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









