
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচি দেশের ইতিহাসে টিকাদান কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
অভিভাবকদের ওয়েবসাইটে গিয়ে শিশুর ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করে রাখতে হবে। এই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১ আগস্ট থেকে।
কারা পাবেন এই টিকা?
- দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে টিকা পাবেন।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবহির্ভূত ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা ইপিআই-এর স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে পারবে।
টিকা দেওয়ার স্থান ও পদ্ধতি
- ২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের ঊরুর বাইরের অংশে ০.৫ এমএল ডোজ দেওয়া হবে।
- ২ বছরের বেশি বয়সীদের বাহুর উপরিভাগে ডেল্টয়েড মাংসপেশিতে একই পরিমাণ ডোজ প্রয়োগ করা হবে।
টিসিভি টিকা কতটা নিরাপদ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত এই টিকা ইতোমধ্যে পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এটি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। টিকা নেওয়ার পর কিছু সাধারণ প্রতিক্রিয়া যেমন হালকা জ্বর, ব্যথা, ক্লান্তি বা টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য লালচে ভাব দেখা দিতে পারে, যা কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়।
নারী ও কিশোরীদের জন্য টিকার প্রভাব
এই টিকা নারীর প্রজননক্ষমতা বা গর্ভধারণে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে গর্ভবতী কিশোরী বা দুগ্ধদানকারী মা এই টিকা গ্রহণ করতে পারবেন না।
যাদের টিকা দেওয়া যাবে না
- টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় কেউ এই টিকা নিতে পারবে না। সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেওয়া যাবে।
- ক্যাম্পেইনের আওতায় ১৫ বছরের বেশি বয়সীরা টিকা পাবেন না, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করতে পারবেন।
পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও পুনরায় গ্রহণ করতে হবে
যেসব শিশু পূর্বে টাইফয়েড টিকা গ্রহণ করেছে, তাদেরও এই ক্যাম্পেইনে এক ডোজ টিকা নিতে হবে। নির্ধারিত দিনে অনুপস্থিত থাকলে ক্যাম্পেইন চলাকালীন যেকোনো ইপিআই কেন্দ্রে গিয়ে টিকা নেওয়া যাবে।
কখনো কখনো টিকা নেওয়ার সময় একাধিক কিশোরী অসুস্থতা বোধ করতে পারে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে Mass Psychogenic Illness বলা হয়, যা মানসিক ভীতিজনিত। এটি টিকার কারণে নয়, বরং মানসিক প্রতিক্রিয়ার ফল।
এই কর্মসূচির আওতায় এক ডোজ টাইফয়েড টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। এটি সরকারের একটি বড় স্বাস্থ্য উদ্যোগ, যা শিশুদের টাইফয়েড জ্বর থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
অনলাইন ডেস্ক 














