পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা নদী, মেঘে ঢাকা শিখর আর ঝরনার কলতান—প্রকৃতির এ রূপ দেখতে চাইলে যেতে হবে বান্দরবানে। অল্প সময়ের ভ্রমণ হলেও এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই মনে গেঁথে থাকে দীর্ঘদিন। দুই দিনের সফরে ঘুরে এলাম এ পাহাড়ি জেলার নীলগিরি, নীলাচল, চিম্বুক পাহাড়সহ আরও কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। আমার কর্মস্থল উত্তরার মাইলস্টোন কলেজ। কলেজ ছুটি মানেই ঘুরে আসার সেরা সময়। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ব্যস্ত নগরীর ক্লান্তিকর সপ্তাহ শেষে আমি পা বাড়ালাম পাহাড়ের শহর বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। রাতের বাসে চড়ে রওনা দিয়েছিলাম, মনে ছিল অফুরন্ত কৌতূহল আর আনন্দের প্রত্যাশা। বাসের জানালা দিয়ে রাতের অন্ধকারে আলোকিত মহাসড়ক পেরিয়ে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল, সামনের যাত্রা হবে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার। পাহাড়, নদী আর মেঘের সঙ্গে কাটবে পরবর্তী দু’টি দিন। ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৮টায় পৌঁছলাম বান্দরবান শহরে। চারপাশে পাহাড়ে ঘেরা শহরটি যেন সবুজের আচ্ছাদনে জেগে উঠেছে। দেরি না করে নাস্তা সেরেই সকালেই শুরু হলো আমাদের ভ্রমণ। আমরা ২ জন সহকর্মী। সাথে যুক্ত হলো বান্দরবানের অধিবাসী আমাদের সাবেক শিক্ষার্থী মং মং প্রু মারমা। সারাদিনের জন্য একটি সিএনজি থ্রি হুইলার ভাড়া করে নিলাম। প্রথমে ঘুরলাম বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়—পাহাড়ি প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা অনন্য এক ক্যাম্পাস। এরপর যাত্রা প্রান্তিক লেকে, যেখানে নীরবতা আর নীল জলের মায়া মন ভরিয়ে দেয়। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা এ লেক যেন পাহাড়ের বুক চিরে গড়ে ওঠা এক নীল জলরাশি। লেকের চারপাশের নীরবতা ভ্রমণপিপাসু মনে এনে দেয়...