
ছালাউদ্দিন রিপনঃ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হারং গ্রামের এক অসহায় যুবক মো. হাসান (৩৭) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাতে না পারায় নিয়মিত ডায়ালাইসিস বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দিন দিন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন এ তরুণ।
হাসান হারং গ্ৰামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে। তার পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতিমধ্যে পৈতৃক ভিটেমাটি, বাড়িঘরসহ সমস্ত সহায়-সম্বল বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তিনি। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শ্যামলী বিএসএইচ হাসপাতালে ডা. আব্দুল ওহাব খানের তত্ত্বাবধানে তার ডায়ালাইসিস চলছিল। চিকিৎসকরা সপ্তাহে অন্তত তিনবার ডায়ালাইসিস করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করেই কোনোমতে বেঁচে আছেন হাসান।
এদিকে অর্থাভাবে শুধু চিকিৎসাই নয়, পরিবারের ভরণ-পোষণও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হাসানের এক ছেলে ও এক মেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। অসহায় এই পরিবারের আর্তনাদ থামছে না।
হাসানের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে যা ছিল সব বিক্রি করেছি। এখন আর কোনো উপায় নেই। প্রতিদিন তার শ্বাসকষ্ট দেখে আমি অসহায় বোধ করি। সমাজের দয়ালু ও বিত্তবান মানুষ যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো আমি তাকে কিছুটা চিকিৎসা করাতে পারব।’’
নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে হাসান বলেন, “সাড়ে তিন বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করিয়েছি। এখন অর্থ না থাকায় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। ডাক্তাররা সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করার কথা বললেও হাতে কোনো অর্থ নেই। তাই মৃত্যুর প্রহর গুনছি।”
অসহায় হাসানের পরিবার সমাজের হৃদয়বান ও সচ্ছল মানুষদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
Reporter Name 














