
চান্দিনা মেইল অনলাইনঃ
গত বছরের ১ জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিস্ময়কর অধ্যায় রচিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ রূপ নেয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে’, যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ দীর্ঘ ৩৬ দিনের সংগ্রামে ক্ষমতা ত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমান তৎকালীন স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক বছরের মাথায় সেই আন্দোলনের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও মুখর হয়ে উঠেছে।
আন্দোলনের সূত্রপাত ও বিস্তার, চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনটি প্রথমে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ চাপে সরকার পতনের পথে বাধ্য হয়, যার পরিণতি ছিল ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’।
এক বছর পূর্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মসূচি; জুলাই গণআন্দোলনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ৩৬ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা আজ থেকে শুরু হয়ে চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে উপাসনালয়ে শহিদদের স্মরণে দোয়া ও প্রার্থনা, ‘জুলাই ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘জুলাই শহিদ শিক্ষাবৃত্তি’ চালু প্রভৃতি।
বিএনপির উদ্যোগে ৩৬ দিনের কর্মসূচি
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঘোষিত কর্মসূচিতে রয়েছে বিজয় মিছিল, মৌন মিছিল, ছাত্র সমাবেশ, আলোচনাসভা, সেমিনার, রক্তদান কর্মসূচি, পথনাটক, শিশু অধিকার বিষয়ক অনুষ্ঠান, ডেঙ্গু ও করোনা সচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ ২২টি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।
সোমবার ৩০ জুন রাতে ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে শহিদ মিনারে একটি স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
১ জুলাই ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং শহিদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন।
এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’
নাগরিক শক্তি (এনসিপি) ৩৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ থেকে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরু করেছে, যার শিরোনাম—‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’। এই পদযাত্রার সূচনা হয় রংপুরে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এবং তা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত হবে।
৩ আগস্ট ঘোষিত হবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং দলের নতুন ইশতেহার। ১৬ জুলাই ‘বৈষম্যবিরোধী শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হবে আবু সাঈদের স্মরণে। ৫ আগস্ট উদযাপন করা হবে ‘ছাত্র-জনতার মুক্তি দিবস’ হিসেবে।
জামায়াতের কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আজ সারা দেশে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
পরবর্তী সময়ের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট দেশজুড়ে গণমিছিল।
গত বছরের জুলাই মাসের ঘটনাবলী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের নাম। এই গণআন্দোলনের এক বছর পূর্তিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সরকারপক্ষের কর্মসূচি দেশজুড়ে নতুনভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামনে কী ঘটবে—তা নিয়ে দেশবাসী রয়েছে গভীর আগ্রহ ও অপেক্ষায়।
Reporter Name 












